পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
ফাহিম বাংলাদেশের সেরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে। শ্রেণিকক্ষে বসে। সহপাঠীদের সাথে আলোচনাকালে রাজনৈতিক জোটগুলোর প্রশংসা করে এবং মনে করে এ নিয়মটি পূর্বেও প্রচলিত ছিল। মাতৃভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২১ দফা ভিত্তিক পাঁচটি দল নিয়ে একটি ফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। জনমানুষের অধিকার রক্ষার সনদ হিসেবে ২১ দফাকে মনে করেছিল। ফাহিমের পিতামাতাও ঐ ফ্রন্টের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিল।
- ক)(1)
লাহোর প্রস্তাব কাকে বলে?
- খ)(2)
মৌলিক গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ফ্রন্টটি পাঠ্যপুস্তকের যে ফ্রন্টকে ইলিত করে তার গঠন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
এ ধরনের একটি ফ্রস্ট নির্বাচনে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত, ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাবকে লাহোর প্রস্তাব বলে।
- খ)
মৌলিক গণতন্ত্র হলো আইয়ুব খান ১৯৫৯ সালে প্রবর্তিত একটি পরোক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা। এতে ইউনিয়ন, থানা, জেলা ও বিভাগ — এ চার স্তরের স্থানীয় সরকার ছিল। জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে প্রতি প্রদেশে ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী (ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য) নির্বাচিত করত। এরাই আবার রাষ্ট্রপতি ও আইনসভার সদস্যদের নির্বাচন করত। ফলে জনগণ প্রকৃত অর্থে সরাসরি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল।
- গ)
উদ্দীপকের ফ্রন্টটি পাঠ্যপুস্তকের যুক্তফ্রন্টকে ইঙ্গিত করে।
১. গঠন: ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৫৩ সালে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার বিরোধী দলগুলো যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। এতে ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম, গণতন্ত্রী দল ও খেলাফতে রব্বানী পার্টি।
২. নেতৃত্ব: নেতৃত্বে ছিলেন এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
৩. কর্মসূচি: ফ্রন্ট জনগণের দাবির ভিত্তিতে ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে; এতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল। নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ঘ)
আমি একমত যে যুক্তফ্রন্টের মতো একটি ফ্রন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
১. জনগণের দাবির প্রতিফলন: ২১ দফায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা, স্বায়ত্তশাসন, ভূমি সংস্কার ও জমিদারি প্রথা বিলোপ, শিক্ষার প্রসার এবং বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মতো জনগণের মৌলিক দাবি ছিল।
২. নির্বাচনে জনগণের রায়: ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের ২২৩টি জিতে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করে। এতে ভোটের মাধ্যমে জনগণের অধিকার ও ইচ্ছা প্রকাশিত হয়।
৩. ঐক্য ও গণতান্ত্রিক চেতনা: বিভিন্ন দল একত্র হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় গণতান্ত্রিক চেতনা ও বাঙালির জাতীয় চেতনা শক্তিশালী হয়।
সুতরাং, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিল, যদিও কেন্দ্রীয় সরকার পরে সরকার বাতিল করে সে অধিকার ক্ষুণ্ণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও