বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

জাহিদ বুয়েট থেকে তড়িৎ প্রকৌশল বিষয়ে ডিগ্রি নিয়ে বড়ো একটি প্রতিষ্ঠানে অনেক বেতনে চাকরির সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তার মেধা ও জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা দিয়ে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখেন। এজন্যই তিনি শিক্ষকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। শিক্ষার্থীদের তিনি সরসময় বলেন, 'অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়ে আত্মার মুক্তিই বড়ো।'

  1. ক)

    শিক্ষার আসল কাজ কী?

    (1)
  2. খ)

    'লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জাহিদ সাহেবের মাঝে 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়ে আত্মার মুক্তিই বড়ো'- 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    শিক্ষার আসল কাজ হলো মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানো, অর্থাৎ মানুষকে প্রাণিত্বের স্তর থেকে মানবিক গুণে উন্নীত করা।

  2. খ)

    'লেফাফাদুরস্তি' বলতে বাইরের চাকচিক্য, লৌকিক ভদ্রতা ও পোশাকি আচরণ বোঝায়। লেখকের মতে শিক্ষা শুধু বাহ্যিক আচার-আচরণ বা ভদ্রতার ভান নয়; এটি মানুষের অন্তরের বিকাশ ও চিত্তের উৎকর্ষ। কেউ ভদ্র পোশাক ও কথাবার্তায় অভ্যস্ত হতে পারে, কিন্তু অন্তরে অনুদার হলে সে প্রকৃত শিক্ষিত নয়। তাই লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক নয়।

  3. গ)

    জাহিদ সাহেবের মধ্যে 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য, অর্থাৎ মনুষ্যত্বের বিকাশ ও অর্থের চেয়ে মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, শিক্ষা শুধু জীবিকা অর্জনের উপায় নয়, বরং মনুষ্যত্ব অর্জনের মাধ্যম। জাহিদ বুয়েট থেকে ডিগ্রি নিয়ে অধিক বেতনের চাকরির সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণ করেননি। তিনি শিক্ষকতার মাধ্যমে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা দিতে চান। এতে বোঝা যায়, তিনি অর্থের মোহকে তুচ্ছ করে মানুষের চরিত্র ও আত্মিক উন্নতিকে বড় মনে করেন।

  4. ঘ)

    'অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়ে আত্মার মুক্তিই বড়ো'- এ মন্তব্যের মূল কথা হলো, বস্তুগত সুখ-সাচ্ছন্দ্যের চেয়ে অন্তরের মুক্তি ও মনুষ্যত্বের বিকাশ অনেক মূল্যবান।

    ১. প্রাণিত্ব বনাম মনুষ্যত্ব: প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, খাওয়া-পরা ও বেঁচে থাকার চেষ্টা মানুষের প্রাণিত্বের দিক। কিন্তু মানুষ হিসেবে তার আসল পরিচয় মনুষ্যত্বে, যা অর্জন করতে হয় চেতনা ও চর্চার মাধ্যমে।
    ২. আত্মার মুক্তি: লোভ, স্বার্থপরতা ও সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হওয়াই আত্মার মুক্তি। অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্য থাকলেও এসব বন্ধন থেকে মুক্ত না হলে মানুষ প্রকৃত অর্থে মুক্ত নয়।
    ৩. শিক্ষার লক্ষ্য: শিক্ষার কাজ হলো মানুষকে এ মুক্তির পথ দেখানো, কেবল বৈষয়িক সাফল্য এনে দেওয়া নয়।

    সুতরাং, প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ; কারণ প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য আত্মার মুক্তি ও মনুষ্যত্বের বিকাশই সবচেয়ে প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন