ব্যবসায় উদ্যোগ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

শেফাউল ও তার শিক্ষিত আট বন্ধু মিলে সীমিত দায়বিশিষ্ট একটি সংগঠন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং নিবন্ধনপত্র পেয়েই তারা কাজ শুরু করে। তাদের প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের মান ভালো হওয়ায় বাজারে পণ্যের ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়। পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য তারা সংগঠনের কাঠামো পরিবর্তন করে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে লাগলো এবং সার্থক হলো।

  1. ক)

    সমবায় সমিতি কী?

    (1)
  2. খ)

    অংশীদারি ব্যবসায়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কি না? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায় সংগঠনটির ধরন কোনটি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবসায় সংগঠনটির গঠন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সমবায় সমিতি হলো সমমনা ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় ও সমতার ভিত্তিতে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত একটি সংগঠন।

  2. খ)

    না, অংশীদারি ব্যবসায়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনে চুক্তি ও নিবন্ধন কোনোটিই বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে নিবন্ধিত ব্যবসায় কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পায়, যেমন নিবন্ধিত ব্যবসায়ের অংশীদার চুক্তিতে উল্লিখিত অধিকার আদায়ে অন্য অংশীদারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। অনিবন্ধিত ব্যবসায় তা পারে না।

  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায় সংগঠনটি হলো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।

    ১. শেফাউল ও তার আট বন্ধু মিলে মোট সদস্য ৯ জন, যা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সদস্যসংখ্যার সীমা (সর্বনিম্ন ২ জন, সর্বোচ্চ ৫০ জন) এর মধ্যে।
    ২. তারা সীমিত দায়বিশিষ্ট সংগঠন গঠন করেছে এবং নিবন্ধনপত্র পেয়েই কাজ শুরু করেছে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পরই কাজ শুরু করতে পারে, কিন্তু পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে এর পরেও কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র নিতে হয়।
    ৩. এ কোম্পানি জনগণের নিকট শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি করতে পারে না।

    তাই প্রথম পর্যায়ের সংগঠনটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে দ্বিতীয় পর্যায়ের সংগঠনটি হলো পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, কারণ তারা শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী এর গঠন প্রক্রিয়া চারটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।

    ১. উদ্যোগ গ্রহণ পর্যায়: উদ্যোক্তারা কোম্পানির নাম, ধরন, মূলধনের পরিমাণ, মূলধন সংগ্রহের উপায় ও ঠিকানা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেন এবং নিবন্ধকের কাছ থেকে নামের ছাড়পত্র সংগ্রহ করেন।
    ২. দলিলপত্র প্রণয়ন পর্যায়: স্মারকলিপি ও পরিমেল নিয়মাবলি প্রণয়ন করা হয়। স্মারকলিপিতে কোম্পানির নাম, ঠিকানা, উদ্দেশ্য, মূলধন ও শেয়ারমালিকদের দায় লেখা থাকে।
    ৩. নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ পর্যায়: ফি ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ আবেদন করে নিবন্ধকের নিকট থেকে নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ করা হয়।
    ৪. কার্যারম্ভ পর্যায়: পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে ন্যূনতম চাঁদা সংগ্রহের ঘোষণাপত্র ও শেয়ার বিক্রয়ের ঘোষণাপত্রসহ আবেদন করে নিবন্ধকের কাছ থেকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র নিতে হয়। এরপর তারা ব্যবসায় শুরু করতে পারে।

    সুতরাং, এই চারটি ধাপ অনুসরণ করেই শেফাউলদের কোম্পানি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন