বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
বিশ্বের ইতিহাসে যুগে যুগে অনেক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু উপমহাদেশে একটি যুদ্ধ আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে প্রতিনিয়ত নাড়া দেয়। ভাগীরথী নদীর তীরে সংঘটিত এই যুদ্ধ ছিল বাংলার ভাগ্য নির্ধারণের যুদ্ধ। কাছের মানুষদের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য যুদ্ধে মহান অধিপতি চরমভাবে পরাজিত হন। ধীরে ধীরে এদেশে শুরু হয় বিদেশি বণিকদের ক্ষমতা দখল এবং শাসন। এ আমলে একটি ধর্মীয় আন্দোলন কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ক)(1)
নওয়াব আবদুল লতিফের জীবন কর্মের একটি উদ্দেশ্য লেখো।
- খ)(2)
হাজী মুহম্মদ মহসীন-কে কেন দানশীল বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন যুদ্ধের ইঙ্গিত করা হয়েছে? যুদ্ধের ফলাফল ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষোক্ত আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নওয়াব আবদুল লতিফের জীবনকর্মের একটি উদ্দেশ্য ছিল মুসলমান সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
- খ)
হাজী মুহম্মদ মহসীন তাঁর সমস্ত সম্পত্তি জনহিতকর কাজে দান করেছিলেন বলে তাঁকে দানশীল বলা হয়। ১৮০৬ সালে তিনি একটি ফান্ড গঠন করে শিক্ষা বিস্তার, চিকিৎসা ও দরিদ্রদের সেবার জন্য সব সম্পত্তি দান করেন। এই ফান্ডের অর্থে হুগলী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মাদ্রাসা ও ছাত্রাবাস স্থাপিত হয় এবং হাজার হাজার মুসলমান তরুণ বৃত্তি পেয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।
- গ)
উদ্দীপকে ভাগীরথী নদীর তীরে সংঘটিত, বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের পরাজয় এবং বিদেশি বণিকদের ক্ষমতা দখলের কথা আছে। এটি ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধ-এর ইঙ্গিত দেয়।
যুদ্ধের ফলাফল:
১. সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যুতে বাংলায় মুঘল শাসনের অবসান ঘটে এবং ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম হয়।
২. ইংরেজরা মীর জাফরকে নামেমাত্র নবাব করে। প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
৩. ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের অধিকার পায় এবং ফরাসিরা বিদায় নিতে বাধ্য হয়।
৪. এ যুদ্ধের পর ইংরেজ শক্তির স্বার্থে এদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন শুরু হয়।
৫. সুদূরপ্রসারী ফল হলো উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়া। - ঘ)
উদ্দীপকের শেষোক্ত আন্দোলন হলো ইংরেজ আমলে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন থেকে কৃষক আন্দোলনে রূপ নেওয়া তিতুমিরের আন্দোলন। এর গুরুত্ব অপরিসীম।
১. সমাজ সংস্কার: ১৮২৭ সালে হজ শেষে তিতুমির ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সমাজ সংস্কারে আত্মনিয়োগ করেন। চব্বিশ পরগনা ও নদীয়ার বহু কৃষক ও তাঁতি তাঁর ডাকে সাড়া দেয়।
২. জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: জমিদার ও নীলকরদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিকার না পেয়ে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
৩. কৃষক ঐক্য: নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে যোগ দিলে ধর্মীয় আন্দোলন ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
৪. প্রেরণা: ১৮৩১ সালে ইংরেজ সেনাবাহিনীর আক্রমণে তিনি শহিদ হন। তাঁর বাঁশের কেল্লা দুঃসাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস জুগিয়েছে।সুতরাং, এই আন্দোলন ইংরেজ ও জমিদারবিরোধী প্রতিরোধ ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও