পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

একই ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক ক্ষমতা এবং ধর্মীয় নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধান রচনা করা হয়েছে। এ রাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্রের সকল কাজে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। উক্ত রাষ্ট্রের আইনসভার একটি বিল পাশের ব্যাপারে আইনসভার মোট ২১০ জন সদস্যের মধ্যে ১৪০ জনের সম্মতি না থাকায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়।

  1. ক)

    রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ম্যাগনাকার্টা কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সংশোধনের ভিত্তিতে 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধান কোন শ্রেণির? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ক' রাষ্ট্রের সংবিধানে বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়- বিশ্লেষণ করো

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে সংবিধান বা মৌলিক আইন দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, তাকে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি বলে।

  2. খ)

    ম্যাগনাকার্টা হলো ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন কর্তৃক স্বাক্ষরিত অধিকার সনদ। সামন্ত প্রভু ও জনগণের চাপে রাজা এতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এর মাধ্যমে রাজার স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা সীমিত হয় এবং আইনের শাসনের ভিত্তি রচিত হয়। একে ইংরেজ সংবিধানের ভিত্তি বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে আইনসভার ২১০ জন সদস্যের মধ্যে ১৪০ জনের সম্মতি না থাকায় বিল বাতিল হয়েছে, অর্থাৎ সম্মতি দিয়েছেন 210−140=70210-140=70 জন।

    মোট সদস্যের 23\frac{2}{3} হলো 210×23=140210\times\frac{2}{3}=140 জন। বিল পাসের জন্য ১৪০ জনের সমর্থন দরকার হলেও সমর্থন পেয়েছে মাত্র ৭০ জন। অর্থাৎ সংশোধনের জন্য বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (দুই-তৃতীয়াংশ) প্রয়োজন হচ্ছে।

    তাই সংশোধনের ভিত্তিতে 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয় শ্রেণির।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানে বাংলাদেশের সংবিধানের কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন দেখা যায়।

    ১. দুষ্পরিবর্তনীয়তা: 'ক' রাষ্ট্রে বিল পাসে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগে। বাংলাদেশেও সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের ভোট প্রয়োজন।
    ২. ধর্মনিরপেক্ষতা: উদ্দীপকে ধর্মীয় নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে সংবিধান রচিত। বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম মূলনীতিও ধর্মনিরপেক্ষতা।
    ৩. গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ: 'ক' রাষ্ট্রে সকল কাজে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানও গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতায়নকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ঘোষণা করেছে।
    ৪. লিখিত সংবিধান: উভয় সংবিধানই লিখিত ও সুসংহত।

    সুতরাং, 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানে বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন