বিজ্ঞান • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২০

বিজ্ঞান প্রশ্ন

মিজান সাহেবের জমিতে ফসল কম হওয়ায় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে জমিতে বিশেষ কিছু লবণ ব্যবহার করে ভাল ফসল পেল। অপরদিকে মৎস্য খামারী খায়রুল সাহেবের পুকুরে পানি ঘোলা হওয়ার কারণে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে পুকুরে চুন প্রয়োগ করে আশানুরূপ ফলাফল পেল।

  1. ক)

    খাবার সোডার রাসায়নিক সংকেত লেখো।

    (1)
  2. খ)

    মিথেনকে এসিড বলা হয় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে খায়রুল সাহেরের ব্যবহৃত যৌগটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মির্জান সাহেব যে যৌগটি ব্যবহার করেছিল উদ্দীপকের আলোকে তার ব্যবহার কতটুকু যুক্তিযুক্ত হয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    খাবার সোডার রাসায়নিক সংকেত NaHCO3NaHCO_3।

  2. খ)

    এসিড হতে হলে যৌগটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+H^+) দিতে পারতে হয়। মিথেন (CH4CH_4) এর হাইড্রোজেন পরমাণুগুলো কার্বনের সাথে সমযোজী বন্ধনে দৃঢ়ভাবে যুক্ত। তাই পানিতে মিথেন থেকে H+H^+ আয়ন তৈরি হয় না। এ কারণে মিথেনে হাইড্রোজেন থাকলেও একে এসিড বলা হয় না।

  3. গ)

    খায়রুল সাহেব পুকুরে চুন (CaO) বা স্ল্যাকড লাইম [Ca(OH)2Ca(OH)_2] প্রয়োগ করেছেন। এর বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।

    ১. ক্ষারধর্মী: চুন একটি ক্ষারক। এটি লাল লিটমাসকে নীল করে এবং এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে।
    ২. পানির সাথে বিক্রিয়া: চুন (CaOCaO) পানির সাথে বিক্রিয়া করে প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে এবং স্ল্যাকড লাইম তৈরি করে: CaO+H2O→Ca(OH)2CaO + H_2O \to Ca(OH)_2।
    ৩. এসিড প্রশমন: পুকুরের পানি বা মাটির এসিডিটি থাকলে চুন তা প্রশমিত (Neutralize) করে পানিকে মাছের বাসযোগ্য করে তোলে।

    এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে চুন প্রয়োগে পুকুরের ঘোলা পানি পরিষ্কার হয় এবং মাছ চাষের পরিবেশ ভালো হয়।

  4. ঘ)

    মিজান সাহেব জমিতে যে বিশেষ লবণ ব্যবহার করেছেন, তা হলো সার (যেমন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম ফসফেট, পটাশিয়াম নাইট্রেট)। পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ আছে যে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত সারের বেশির ভাগই লবণ। তাঁর এই ব্যবহার যুক্তিযুক্ত হয়েছে বলে মনে করি।

    ১. পুষ্টি উপাদান সরবরাহ: একই জমিতে বারবার চাষ করলে ফসল মাটি থেকে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মতো উপাদান শুষে নেয়, ফলে জমির উর্বরতা কমে যায়। লবণজাতীয় সার এই ঘাটতি পূরণ করে।
    ২. ফলন বৃদ্ধি: উদ্দীপকে কম ফসল পাওয়া জমিতে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে লবণ ব্যবহার করে ভালো ফসল পাওয়া গেছে, যা উর্বরতা ফিরে আসার প্রমাণ।
    ৩. সীমাবদ্ধতা: তবে অতিরিক্ত বা অপরিকল্পিত সার ব্যবহার করলে মাটি ও পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে, তাই পরিমিত মাত্রায় প্রয়োগ জরুরি।

    সুতরাং, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মেনে পরিমিত পরিমাণে লবণ (সার) ব্যবহার করায় মিজান সাহেবের সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন