ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
ইসলাম প্রশ্ন
ব্যবসায়ী সুমনের কাছে তার দরিদ্র প্রতিবেশী ১০,০০০ টাকা ধার চাইলে ১২,০০০ টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে ধার দিতে রাজি হয়। নারী উদ্যোক্তা সাবিহা খাতুনের একটি দুগ্ধ উৎপাদন খামার আছে। তার খামারে দৈনিক পঞ্চাশ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য পাঁচ হাজার টাকা। তার স্বামী তাকে বলল আমরা যদি এতে পাঁচ লিটার পানি মিশ্রিত করে বিক্রি করি তা হলে আমরা দৈনিক পাঁচশত টাকা বাড়তি আয় করতে পারব। যা দিয়ে আমাদের দুজন কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করা যাবে। এই কথা শুনে সাবিহা খাতুন বললেন, এতে সাময়িকভাবে লাভবান হলেও আমরা প্রকৃত সফলতা থেকে বঞ্চিত হব এবং আল্লাহর কাছে অসম্মানিত হব।
- ক)(1)
সৎ কাজের আদেশ অসৎ কাজের নিষেধ এর আরবি পরিভাষা কী?
- খ)(2)
“দেশ প্রেম ও দেশের সেবা করা ইবাদত স্বরূপ।”—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
সুমনের কর্মকাণ্ডে আখলাকে যামিমার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সাবিহা খাতুনের কর্মকাণ্ড আখলাকে হামিদার আলোকে চিহ্নিতপূর্বক তার উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের আরবি পরিভাষা হলো আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকার (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر)।
- খ)
দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। যে দেশে আমরা জন্মগ্রহণ করি ও বেড়ে উঠি, তার প্রতি ভালোবাসা ও কর্তব্য রয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করা, দেশের সম্পদ রক্ষা করা এবং দেশের উন্নতিতে অবদান রাখা আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে করলে তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।
রাসূল (স) নিজেও মক্কাকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দেশের সেবা করা ইবাদতের শামিল। - গ)
সুমনের কর্মকাণ্ডে আখলাকে যামিমার সুদ (রিবা) নামক দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
সুমন ১০,০০০ টাকা ধার দিয়ে ১২,০০০ টাকা ফেরত নেওয়ার শর্ত করেছেন। অর্থাৎ ঋণের ওপর ২,০০০ টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছেন, যা সুদ। ইসলামে সুদ সম্পূর্ণ হারাম। কুরআনে বলা হয়েছে, "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।" সুদ শোষণ ও অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং সমাজে দরিদ্র মানুষের কষ্ট বাড়ায়। তাই এটি আখলাকে যামিমা বা নিন্দনীয় চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
সাবিহা খাতুনের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদার সততা (সিদ্দিক) ও আমানতদারি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি দুধে পানি মিশিয়ে বাড়তি আয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তার উক্তি—"সাময়িকভাবে লাভবান হলেও আমরা প্রকৃত সফলতা থেকে বঞ্চিত হব এবং আল্লাহর কাছে অসম্মানিত হব"—যথার্থ। কারণ—
১. ভেজাল মেশানো প্রতারণা ও হারাম উপার্জন। রাসূল (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি ভেজাল দেয় সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
২. হারাম আয়ে বরকত থাকে না এবং এমন ব্যক্তির দোয়া ও ইবাদত কবুল হয় না।
৩. প্রতারণা প্রকাশ পেলে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়, ফলে ব্যবসার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়। আর সৎ ব্যবসায়ী কিয়ামতে নবী ও সিদ্দিকদের সঙ্গী হবেন।সুতরাং, ভেজালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক লাভ হলেও দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতি অনিবার্য, তাই সাবিহা খাতুনের উক্তি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও