ভূগোল এবং পরিবেশ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: সাইমন বেগমের বয়স ৮০ বছর। তিনি রাজশাহী শহরে বসবাস করেন। তিনি লক্ষ করলেন বিগত বছরগুলোর তুলনায় উত্তপ্ততা ও শৈত্যপ্রবাহ দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে।দৃশ্যকল্প-২: ফয়েজউদ্দীন তার আবাদী জমি বৃদ্ধির জন্য পাশের বনগুলো কেটে ফেলেন এবং জমিতে অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য সার প্রয়োগ করেন।
- ক)(1)
জীববৈচিত্র্য কাকে বলে?
- খ)(2)
পরিবহনের ধোঁয়া বায়ুর উপর কীভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-২ এ পরিবেশের যে উপাদানটি দূষিত হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ এ সাইমন বেগমের এলাকার পরিবেশের যে অবস্থা তা থেকে. পরিত্রাণের উপায়গুলো উল্লেখ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সকল ধরনের উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের বৈচিত্র্যময় অবস্থাকে জীববৈচিত্র্য বলে।
- খ)
যানবাহনের ধোঁয়ার সাথে পলিনিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন, সীসা, পারদ, নিকেল, সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড প্রভৃতি বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে মিশে যায়। এতে বায়ু দূষিত হয় এবং শ্বাস নেওয়ার অনুপযোগী হয়ে ওঠে। ফলে মানুষের হাঁপানি, সর্দি, কাশি ও অন্যান্য অ্যালার্জিজনিত রোগের মাত্রা বেড়ে যায়।
- গ)
দৃশ্যকল্প-২-এ ফয়েজউদ্দীন জমিতে অধিক ফসল ফলানোর জন্য অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করছেন। এতে পরিবেশের ভূমি (মাটি) উপাদানটি দূষিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা:
১. অধিক সার ও রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগে মাটি দূষিত হয় এবং মাটির জৈব উপাদান কমে গিয়ে উর্বরতা হ্রাস পায়।
২. এর ফলে মাটিতে বসবাসকারী অণুজীব ও ক্ষুদ্রজীব ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বন্য ক্ষুদ্র প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়।
৩. তাছাড়া তিনি বন কেটে ফেলছেন। এতে পরিবেশের আরেকটি উপাদান, বনজ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। এতে মাটির ক্ষয় বাড়ে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। - ঘ)
দৃশ্যকল্প-১-এ সাইমন বেগম লক্ষ করেছেন যে আগের তুলনায় উত্তপ্ততা ও শৈত্যপ্রবাহ দুটোই বেড়েছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়নের লক্ষণ। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায়গুলো হলো-
১. গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো: কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ও ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের নির্গমন কমাতে হবে। এজন্য কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
২. বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ: বনাঞ্চল উজাড় বন্ধ করে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করতে হবে। গাছ কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে।
৩. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো: কাঠ কয়লা পোড়ানোর মতো কাজ কমিয়ে সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়াতে হবে।
৪. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের (COP) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্বের সব দেশকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি সীমিত রাখতে একযোগে কাজ করতে হবে।
৫. জনসচেতনতা: পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ ও জনগণকে সচেতন করতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও