বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
শিহাবের খুব ইচ্ছা নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। বাংলায় নৌরাহিনীর ইতিহাস সম্পর্কে পড়তে গিয়ে সে জানতে পারে মধ্যযুগের এক শাসক এখানে প্রথম নৌবাহিনী গঠন করেন। তাছাড়া রাজ্যকে সুরক্ষিত করার জন্য তিনি রাজধানীও পরিবর্তন করেন।
- ক)(1)
'দাখিল দরওয়াজা' কে নির্মাণ করেন?
- খ)(2)
স্বাধীন সুলতানি শাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকটি মধ্যযুগের কোন শাসককে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উত্ত শাসক শাসনকার্যে দক্ষতার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
‘দাখিল দরওয়াজা’ নির্মাণ করেন সুলতান বারবক শাহ।
- খ)
স্বাধীন সুলতানি শাসন বলতে বোঝায় দিল্লির সুলতানের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে বাংলার সুলতানদের নিজস্ব শাসন। ১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ সোনারগাঁয়ে স্বাধীনভাবে শাসন শুরু করেন। এরপর প্রায় দুই শতাব্দী বাংলায় সুলতানরা দিল্লির নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নিজেদের শাসন চালান।
- গ)
উদ্দীপকটি মধ্যযুগের সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজিকে নির্দেশ করছে।
বখতিয়ার খলজির প্রতিষ্ঠিত বাংলার মুসলমান রাজ্যকে শক্তিশালী করার জন্য গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজি শাসনকাজের সুবিধার্থে রাজধানী দেবকোট থেকে গৌড় বা লখনৌতিতে স্থানান্তর করেন। রাজধানীর প্রতিরক্ষা সুদৃঢ় করতে বসনকোটে দুর্গ নির্মাণ এবং তিন পাশে গভীর ও প্রশস্ত পরিখা খনন করা হয়।
ইওয়াজ খলজি বুঝেছিলেন, নদীমাতৃক বাংলায় শক্তিশালী নৌবাহিনী ছাড়া শুধু অশ্বারোহী বাহিনী দিয়ে রাজ্য সম্প্রসারণ ও শাসন বজায় রাখা সম্ভব নয়। তাই বাংলায় মুসলিম শাসকদের মধ্যে তিনিই নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মধ্যযুগের এক শাসক বাংলায় প্রথম নৌবাহিনী গঠন করেন এবং রাজ্য সুরক্ষিত করতে রাজধানী পরিবর্তন করেন। এ দুটি কাজই ইওয়াজ খলজির, তাই উদ্দীপকে তাঁকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
উক্ত শাসক গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজি শাসনকাজে দক্ষ ছিলেন এবং শিল্প-সংস্কৃতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, এই মন্তব্য যথার্থ।
শাসনকার্যে দক্ষতা: তিনি রাজধানী গৌড় বা লখনৌতিতে স্থানান্তর করেন, বসনকোটে দুর্গ ও রাজধানীর চারপাশে পরিখা নির্মাণ করেন এবং নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন। বার্ষিক বন্যা থেকে লখনৌতি ও পার্শ্ববর্তী এলাকা রক্ষায় তিনি বহু খাল খনন ও সেতু নির্মাণ করেন। রাস্তা তৈরি করে সৈন্য ও পণ্য চলাচলের ব্যবস্থা করেন। কামরূপ, উড়িষ্যা, বঙ্গ ও ত্রিহুতের রাজারা তাঁর কাছে কর পাঠাতে বাধ্য হয়।
শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদান:
১. স্থাপত্যে পৃষ্ঠপোষকতা: তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় গৌড়ের জুমা মসজিদ ও আরও কয়েকটি মসজিদ নির্মিত হয়।
২. ধর্ম ও জ্ঞানচর্চা: তাঁর আমলে পারস্য থেকে বহু সুফি ও সুধী বঙ্গদেশে আসেন এবং ইসলাম প্রচারে সহায়তা করেন।
৩. সংস্কৃতির কেন্দ্র: এসব কারণে লখনৌতি অভিজাত মুসলমানদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রে পরিণত হয়।
৪. সামগ্রিক মূল্যায়ন: তাঁর সময়ে রাজনৈতিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন পাশাপাশি এগিয়েছে, তাই তিনি কেবল যোদ্ধা নন, শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন।
সুতরাং ইওয়াজ খলজি শাসনদক্ষতার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতিতেও অবদান রেখে সুলতানদের মধ্যে অন্যতম হয়েছেন। মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও