বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
নদ-নদী পরিবেষ্টিত অষ্টমীর চর অঞ্চলের শাসক ছিলেন শাহাদাত হোসেন। নিজের অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য পদাতিক, অশ্বারোহী বাহিনী থাকলেও তার রাজ্য নদীবিধৌত' হওয়ায় নিরাপত্তার জন্য তিনি বিশেষ নৌ বাহিনী তৈরি করেন। বন্যার হাত থেকে তার এলাকা রক্ষার জন্য তিনি বহু খাল খনন ও সেতু নির্মাণ করে তার এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করেন। তার প্রভাব প্রতিপত্তিকে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শক্তিশালী শাসক সুনজরে দেখেননি। তিনি অষ্টমীর চর আক্রমণ করে তার রাজ্যভুক্ত করেন।
- ক)(1)
সতীদাহ প্রথা কী?
- খ)(2)
পৌরাণিক ধর্ম বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাহাদাতের সাথে বাংলার কোন খলজি মালিক শাসকের তুলনা করা চলে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উক্ত শাসকের পরাজয়ের ফলে বঙ্গদেশ দিল্লির অধিকারে চলে আসে"- 'বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকে মৃত স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে বাধ্য করার প্রথাকে সতীদাহ প্রথা বলা হয়।
- খ)
পাল, বর্ম ও সেন যুগে বৈদিক ধর্মের পাশাপাশি বাংলায় এমন এক ধর্ম প্রসার লাভ করে, যেখানে পূর্বের দেব-দেবীর স্থলে নতুন দেব-দেবীর পূজা শুরু হয়। এই দেব-দেবীরা ছিলেন মূলত পুরাণ ও মহাকাব্যে বর্ণিত।
এ কারণে এই ধর্মকে ‘পৌরাণিক ধর্ম’ বলা হয়। এ ধর্মে পুরোহিতরা ধর্মকর্ম পরিচালনার দায়িত্ব পান, ক্রিয়াকাণ্ড জটিল হয় এবং পশুবলি বৃদ্ধি পায়। এর থেকেই বৈষ্ণবধর্ম উদ্ভূত হয়, যা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। গুপ্তযুগে শৈবধর্মও প্রচলিত ছিল।
- গ)
উদ্দীপকের শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে বাংলার খলজি মালিক সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজির তুলনা করা চলে।
শাহাদাত নদীবিধৌত অঞ্চলের শাসক হয়ে পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী গঠন করেন এবং বন্যা থেকে রক্ষায় খাল খনন ও সেতু নির্মাণ করেন। ইওয়াজ খলজিও বুঝেছিলেন যে নদীমাতৃক বাংলায় শক্তিশালী নৌবাহিনী ছাড়া শুধু অশ্বারোহী বাহিনী দিয়ে রাজ্য রক্ষা ও সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। তাই বাংলায় মুসলিম শাসকদের মধ্যে তিনিই নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন। বার্ষিক বন্যা থেকে লখনৌতি ও পার্শ্ববর্তী এলাকা রক্ষায় তিনি বহু খাল খনন ও সেতু নির্মাণ করেন এবং রাস্তা নির্মাণ করেন। উভয়ের প্রভাব-প্রতিপত্তি শক্তিশালী প্রতিবেশী শাসকের পছন্দ হয়নি। ইওয়াজ খলজির ক্ষেত্রে সেই শক্তি ছিলেন দিল্লির সুলতান ইলতুতমিশ।
- ঘ)
উদ্দীপকের শাসক অর্থাৎ ইওয়াজ খলজির পরাজয়ের ফলে বঙ্গদেশ দিল্লির অধিকারে চলে আসে, কথাটি যথার্থ।
১. ইলতুতমিশের অভিযান : ইওয়াজ খলজি ইলতুতমিশের অধীনতা অস্বীকার করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বিহার আক্রমণ করে দিল্লি-নিযুক্ত শাসক আলাউদ্দিন জানিকে তাড়িয়ে দেন। ফলে ইলতুতমিশ পুত্র নাসিরউদ্দিন মাহমুদকে লখনৌতি আক্রমণের নির্দেশ দেন।
২. ইওয়াজের পরাজয় : ইওয়াজ খলজি পূর্ববঙ্গ অভিযানে থাকার সময় নাসিরউদ্দিন মাহমুদ রাজধানী লখনৌতি আক্রমণ করেন। ইওয়াজ অল্প সৈন্য নিয়ে ফিরে এলেও বসনকোট দুর্গ ততক্ষণে দিল্লির বাহিনীর দখলে চলে যায়। যুদ্ধে তিনি পরাজিত ও বন্দী হন এবং পরে নিহত হন।
৩. ফলাফল : তাঁর পরাজয় ও পতনের পর বঙ্গদেশ পুরোপুরি দিল্লির সুলতানদের অধিকারে আসে এবং নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। ১২৮৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ষাট বছর বাংলা দিল্লির একটি প্রদেশ হিসেবে শাসিত হয়।অতএব, ইওয়াজ খলজির পরাজয়ই বঙ্গদেশকে দিল্লির অধীনে নিয়ে আসে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও