ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন
জনাব আব্দুল্লাহ 'হিমালয় লিমিটেড' নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু শেয়ার ক্রয় করেছিলেন। গত মাসে শেয়ারগুলো বিক্রয় করে তিনি তার মায়ের চিকিৎসা করিয়েছেন। অন্যদিকে, তার বন্ধু জনাব রফাতুল্লাহ 'ক' ও 'খ' কোম্পানিতে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করার চিন্তাভাবনা করছেন। 'ক' কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে তিনি সর্বপ্রথম কোম্পানির অর্জিত আয়ের সুদ ও বিক্রীত সম্পদের প্রাপ্ত অর্থ পাবেন। 'খ' কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত আয় পেলেও এর বিপরীতে কোনো স্থায়ী সম্পদ বন্ধক রাখা হয় না।
- ক)(1)
রাইট শেয়ার কী?
- খ)(2)
বিলম্বিত শেয়ারকে প্রবর্তকের শেয়ার বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব আব্দুল্লাহর কোন ধরনের শেয়ার ছিল? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব রফাতুল্লাহর জন্য মুনাফা ও সম্পদের অধিকার এবং জামানতের বিবেচনায় কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু করার সময় বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের তাদের শেয়ারের অনুপাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে শেয়ার কেনার সুযোগ দেয়, তাকে রাইট শেয়ার বলে।
- খ)
বিলম্বিত শেয়ার সাধারণত কোম্পানির প্রবর্তক বা প্রতিষ্ঠাতারা গ্রহণ করেন, তাই একে প্রবর্তকের শেয়ার বলা হয়। কোম্পানি গঠনের ঝুঁকি ও দায়িত্ব তাঁরাই বেশি বহন করেন। অন্যান্য শেয়ারের লভ্যাংশ দেওয়ার পর মুনাফা অবশিষ্ট থাকলে তবেই এ শেয়ারের লভ্যাংশ দেওয়া হয়। এ কারণে এটি প্রবর্তকের শেয়ার নামে পরিচিত।
- গ)
জনাব আব্দুল্লাহর শেয়ারটি সাধারণ শেয়ার (Ordinary Share) ছিল।
উদ্দীপকে তিনি হিমালয় লিমিটেডের শেয়ার কিনেছিলেন এবং প্রয়োজনের সময় তা বিক্রয় করে মায়ের চিকিৎসা করিয়েছেন। সাধারণ শেয়ার সাধারণ মানুষ সহজে কিনতে পারে এবং শেয়ারবাজারে বিক্রি বা হস্তান্তর করা যায়। অন্যান্য শেয়ারের তুলনায় এর হস্তান্তর সহজ হওয়ায় প্রয়োজনে নগদ অর্থ পাওয়া যায়। তাই তাঁর শেয়ার সাধারণ শেয়ার।
- ঘ)
উদ্দীপকের 'ক' কোম্পানির বিনিয়োগকারী মুনাফা ও সম্পদ বিক্রির অর্থ সবার আগে পান। তাই 'ক' হলো নিরাপদ ঋণপত্র। 'খ' কোম্পানিতে নির্দিষ্ট হারে আয় পাওয়া গেলেও কোনো স্থায়ী সম্পদ বন্ধক নেই, তাই 'খ' হলো অনিরাপদ ঋণপত্র। মুনাফা ও সম্পদের অধিকার এবং জামানতের বিবেচনায় 'খ' কোম্পানিতে বিনিয়োগ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
১. মুনাফার অধিকার: 'ক' তে অর্জিত আয় থেকে সবার আগে সুদ পাওয়া যায়, কিন্তু 'খ' তে এই অগ্রাধিকার নেই।
২. সম্পদের অধিকার: কোম্পানি বন্ধ হলে 'ক' এর বিনিয়োগকারী সম্পদ বিক্রির অর্থ থেকে আগে টাকা ফেরত পান। 'খ' এর বিনিয়োগকারী পান তার পরে।
৩. জামানত: 'ক' তে স্থায়ী সম্পদ জামানত থাকায় অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা বেশি। 'খ' তে জামানত না থাকায় কোম্পানি ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত না পাওয়ার ঝুঁকি বেশি।সুতরাং, জনাব রফাতুল্লাহর জন্য 'খ' কোম্পানিতে বিনিয়োগ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও