বিজ্ঞান • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

বিজ্ঞান প্রশ্ন

রুবিনার মা হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লো। তাকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার প্রথমেই তার ডান হাতের কবজিতে তিন আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে 'ঘড়ি দেখতে' লাগলেন। পরবর্তীতে ডাক্তার রুবিনার মার রক্ত পরীক্ষা করে দেখলেন তার রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পেয়েছে।

  1. ক)

    প্লাজমা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    হার্ট অ্যাটাক উচ্চ রক্তচাপের কারণ- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ডাক্তার প্রথম পরীক্ষণের মাধ্যমে কী পরিমাপ করতে চেয়েছেন? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    শুধু ওষুধ সেবন করে রুবিনার মার রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। এর প্রায় ৯০% পানি এবং বাকি ১০% জৈব ও অজৈব পদার্থ।

  2. খ)

    প্রশ্নে সম্পর্কটি উল্টো লেখা আছে। পাঠ্যবইয়ে উচ্চ রক্তচাপই হার্ট অ্যাটাকের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে। রক্তচাপ দীর্ঘদিন (সিস্টোলিক ১৪০ mmHg বা বেশি, ডায়াস্টোলিক ৯০ mmHg বা বেশি) বেশি থাকলে ধমনির গায়ে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং হৃৎপিণ্ডকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। ফলে হৃৎপিণ্ড বড় ও দুর্বল হয়ে যায় এবং স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়ে।

  3. গ)

    ডাক্তার প্রথম পরীক্ষণে রুবিনার মায়ের পালস রেট বা হৃৎস্পন্দনের হার (প্রতি মিনিটে হৃৎস্পন্দনের সংখ্যা) পরিমাপ করতে চেয়েছেন।

    ১. হাতের কবজিতে রেডিয়াল ধমনিতে হৃৎস্পন্দন অনুভব করাকে পালস বলে। ডাক্তার তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা—এই তিন আঙুল দিয়ে কবজিতে চেপে ধরেন।
    ২. ঘড়ি ধরে এক মিনিটে ধুকধুক শব্দ কতবার হয় তা গণনা করা হয়।
    ৩. সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক পালস রেট প্রতি মিনিটে ৬০-১০০ বার। এর কম-বেশি হলে রোগীর হৃদ্‌যন্ত্র বা শারীরিক অবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

  4. ঘ)

    না, শুধু ওষুধ সেবন করে রুবিনার মায়ের রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এ রোগ নিয়ন্ত্রণের তিনটি অংশ আছে—খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ সেবন ও জীবন-শৃঙ্খলা। এর পক্ষে যুক্তি—

    ১. খাদ্য নিয়ন্ত্রণ: নিয়ন্ত্রিত খাদ্য না থাকলে ওষুধ খেয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। চিনি ও মিষ্টি বর্জন করে প্রোটিনসমৃদ্ধ ও কম শ্বেতসারযুক্ত খাবার খেতে হবে।
    ২. জীবন-শৃঙ্খলা: নিয়মিত সুষম খাবার, প্রয়োজনমতো ব্যায়াম এবং নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ পরিমাপ করে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
    ৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: মোটা রোগীর ওজন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ডাক্তারের পরামর্শমতো খেতে হবে।
    ৪. জটিলতা প্রতিরোধ: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ ও করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

    সুতরাং, ওষুধের পাশাপাশি খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও জীবন-শৃঙ্খলা মানলেই রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন