হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
বিকাশ বাবু একজন সৎ মানুষ, তিনি নিয়মিত ভগবানের আরাধনা করেন। তিনি গরিব হলেও সৎভাবে জীবন-যাপন করেন। তার অন্যের সম্পদের জন্য লোভ-লালসা নেই। তার আচার-আচরণ নিয়ে সমাজের সবাই প্রশংসা করে। অন্যদিকে সুধীর একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। সে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে। অসৎ ব্যক্তিদের সাথে তার যোগাযোগ এবং প্রায়ই সে আসক্ত তাকে। এখন সে এক রোগে আক্রান্ত। কোনো ব্যক্তিই তার সাথে এখন আর সম্পর্ক রাখতে চায় না। সে অসহায়ভাবে জীবন-যাপন করছে।
- ক)(1)
শিষ্টাচার কাকে বলে?
- খ)(2)
'স্মৃতিশাস্ত্র' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
বিকাশ বাবুর চরিত্রের সাথে তোমার চরিত্র কীভাবে প্রতিফলিত করবে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সুধীর বাবুর মতো রোগীদের জীবনে ঘনিয়ে আসা করুণ পরিণতিসমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে শিষ্টাচার বলে।
- খ)
ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে বেদের পরেই স্মৃতিশাস্ত্রের স্থান। বেদের পরে কর্তব্য-অকর্তব্য বা ধর্ম-অধর্ম নির্ণয়ের জন্য রচিত গ্রন্থাবলিকে স্মৃতিশাস্ত্র বলা হয়। মনুসংহিতা, পরাশর সংহিতা ও যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। বৈদিক শিক্ষার কর্ম ও জ্ঞান—এ দুই মতের সংযোগ ঘটিয়ে স্মৃতিশাস্ত্র সৃষ্টি হয়েছে। এতে হিন্দুসমাজ পরিচালনার বিধি-বিধানও সন্নিবেশিত আছে। ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে স্মৃতিশাস্ত্র দ্বিতীয় প্রমাণ।
- গ)
বিকাশ বাবুর চরিত্রের মতো আমিও আমার জীবনে সততা, নির্লোভ ও নৈতিকতা প্রতিফলিত করব।
বিকাশ বাবুর চরিত্র: বিকাশ বাবু সৎ, নিয়মিত ভগবানের আরাধনাকারী। তিনি গরিব হলেও সৎভাবে জীবনযাপন করেন, অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ করেন না এবং তাঁর আচরণে সমাজের সবাই সন্তুষ্ট। এগুলো ধর্মের লক্ষণ 'অস্তেয়' (চুরি না করা), 'সত্য' ও 'ধৃতি'র প্রকাশ। ধার্মিকের স্বরূপও এমনই।
আমার জীবনে প্রতিফলন:
১. সততা: আমি সর্বদা সত্য কথা বলব, মিথ্যার আশ্রয় নেব না। 'সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা'—এ কথা মনে রেখে প্রতিটি ক্ষেত্রে সততার পরিচয় দেব।
২. লোভ বর্জন: অন্যের জিনিসের প্রতি লোভ করব না, চুরি করব না। যা আমার নয়, তা গ্রহণ করব না।
৩. শিষ্টাচার: বড়দের প্রণাম ও সম্মান করব, সবার সঙ্গে নম্র ও ভদ্র আচরণ করব।
৪. ধর্মাচরণ: নিয়মিত ঈশ্বরের আরাধনা করব এবং ধর্মপথে চলব।এভাবে বিকাশ বাবুর আদর্শ অনুসরণ করলে আমার চরিত্র সৎ ও সুন্দর হবে এবং সবাই আমাকে ভালোবাসবে।
- ঘ)
সুধীর বাবুর মতো ব্যক্তির জীবনে করুণ পরিণতি নেমে আসে। উদ্দীপকে সুধীর অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে, অসৎ সঙ্গে জড়িয়ে নেশাজাতীয় কিছুতে আসক্ত হয় এবং এখন রোগাক্রান্ত। সে সবার কাছে পরিত্যক্ত ও অসহায়।
ধারণা: অধর্মের পথ অনৈতিক। মাদক ও কুকর্ম মানুষের বিবেকবুদ্ধি নষ্ট করে। মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, ধর্ম নষ্ট করলে ধর্মই ধর্মনাশকারীকে বিনাশ করে।
১. দৈহিক ও মানসিক ক্ষতি: ধূমপান ও মাদক গ্রহণে নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, গ্যাস্ট্রিক আলসারসহ নানা রোগ হয়। মাদকাসক্তের বিবেকবুদ্ধি লোপ পায়, এমনকি মস্তিষ্কবিকৃতি পর্যন্ত ঘটতে পারে। সুধীর এখন রোগে আক্রান্ত।
২. পারিবারিক জীবনে পরিণতি: মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়। মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে সে অসৎ উপায় নেয়, ফলে পরিবারে অশান্তি ও অবিশ্বাস দেখা দেয়।
৩. সামাজিক জীবনে পরিণতি: মাদকাসক্তের সঙ্গে মানুষ সম্পর্ক রাখতে চায় না। সামাজিক বন্ধন শিথিল হয়ে সে একা হয়ে পড়ে। সুধীরকে এখন কেউ সঙ্গ দিতে চায় না, সে অসহায়ভাবে জীবন কাটাচ্ছে।
৪. রাষ্ট্রীয় জীবনে পরিণতি: অবৈধ উপার্জন ও কুকর্ম রাষ্ট্রীয় আইনে অপরাধ। অধার্মিক কুকর্মের জন্য দণ্ডিত হন ও দণ্ডভোগ করেন। এছাড়া আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার ফলে রাষ্ট্রেরও ক্ষতি হয়।
৫. পরলোকে পরিণতি: ধর্মশাস্ত্র অনুসারে কুকর্ম থেকে পাপ অর্জিত হয়। পাপী নরকযন্ত্রণা ভোগ করেন এবং জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হন। তবে অধর্ম ত্যাগ করে ধর্মপথে এলে পাপীও পরিশুদ্ধ হতে পারে।অতএব, সুধীরের মতো ব্যক্তির পরিণতি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সর্বত্র অশুভ। এ থেকে মুক্তির পথ হলো অধর্ম পরিহার করে ধর্ম ও নৈতিকতার পথে ফেরা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও