হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সজীবের বয়স এখন চার বছর। সে বড় হয়ে তার দাদুকে দেখেনি। তাই একদিন সজীব বাবার কাছে দাদু সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তার বাবা বললেন যে, তোমার দাদু এখন আশ্রম জীবনের চতুর্থ পর্যায়ে জীবন ধারণ করছেন।

  1. ক)

    'একেশ্বরবাদ' কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ভক্তিতেই মুক্তি'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    পাঠ্যপুস্তকের আলোকে সজীবের দাদু কোন আশ্রম ধর্ম অতিবাহিত করছে- তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, সজীবের দাদুর সন্ন্যাস গ্রহণ যুক্তিযুক্ত? উত্তরের সপক্ষে মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ব্রহ্ম বা ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়, তিনি একাধিক নন; এই বিশ্বাসকে একেশ্বরবাদ বলে।

  2. খ)

    'ভক্তিতেই মুক্তি' কথার অর্থ ভক্তির মাধ্যমেই মোক্ষ বা মুক্তি লাভ করা যায়। ভক্তি মানে ঈশ্বরের প্রতি গভীর প্রেম ও বিশ্বাস। ভক্তিযোগে ভগবানের চরণে আত্মসমর্পণ করে সাধক তাঁর অনুগ্রহ পান এবং পাপ-তাপ-দুঃখ থেকে মুক্ত হন। গীতায় তাই ভক্তকে ভগবানের প্রিয় বলা হয়েছে।

  3. গ)

    উদ্দীপকে সজীবের দাদু আশ্রম জীবনের চতুর্থ পর্যায়ে আছেন। অর্থাৎ তিনি সন্ন্যাস আশ্রম পালন করছেন।

    চতুরাশ্রমের ধারণা: হিন্দুধর্মে জীবনকে সার্থক করার জন্য চারটি আশ্রমের কথা বলা হয়েছে: ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস। শেষ বা চতুর্থ আশ্রম হলো সন্ন্যাস।

    সন্ন্যাস আশ্রমের বর্ণনা: সন্ন্যাস শব্দের অর্থ সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ। শাস্ত্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী ৭৫ থেকে ১০০ বছর বয়সের মধ্যে এ আশ্রম পালন করতে হয়। এ সময় সন্ন্যাসী একাকী জীবনযাপন করেন, স্ত্রীও সঙ্গে থাকেন না। তিনি জাগতিক সকল কর্ম পরিত্যাগ করে কেবল ঈশ্বরচিন্তায় মগ্ন থাকেন। দুপুরের আহার লোকালয় থেকে সংগ্রহ করেন, বাকি দুবেলা দুধ-ফল স্বল্প পরিমাণে খান। আশ্রয়হীন অবস্থায় মন্দির বা দেবালয়ে ক্ষণকাল আশ্রয় নিতে পারেন। পোশাক-পরিচ্ছদ থাকে সাধারণ। অতীত জীবনের স্মৃতি ভুলে তিনি এক মনে ধ্যান করেন।

    সজীব দাদুকে দেখেনি, তাই বাবার কথায় বোঝা যায় দাদু সংসার ত্যাগ করে এ আশ্রমে ঈশ্বরসাধনায় আছেন।

  4. ঘ)

    আমার মতে সজীবের দাদুর সন্ন্যাস গ্রহণ যুক্তিযুক্ত।

    পাঠ্যবইয়ের আলোকে: স্মৃতিশাস্ত্র অনুযায়ী মানুষের জীবন চার আশ্রমে বিভক্ত। প্রথম দুই আশ্রমে কর্মযোগ এবং শেষ দুই আশ্রমে জ্ঞানযোগের পরিচয় মেলে। সন্ন্যাসে মানুষ কর্ম ত্যাগ করে ব্রহ্মচিন্তায় নিমজ্জিত হয়।

    ১. শাস্ত্রসম্মত বয়স ও পর্যায়: ৭৫ থেকে ১০০ বছর বয়সে সন্ন্যাসের শাস্ত্রীয় নির্দেশ আছে। দাদু আগের তিন আশ্রম সম্পন্ন করে বার্ধক্যে এ পর্যায়ে এসেছেন বলে ধরা যায়। এটি জীবনের স্বাভাবিক ক্রমের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
    ২. দায়িত্ব পালনের পর মুক্তির সাধনা: গার্হস্থ্য আশ্রমে সন্তান ও পরিবারের প্রতি কর্তব্য পালন শেষ হলে মানুষ আত্মার মুক্তির জন্য সাধনায় মনোযোগ দিতে পারে। মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি মোক্ষ বা ঈশ্বরলাভ। এ লক্ষ্যে সন্ন্যাস সহায়ক।
    ৩. আসক্তি ত্যাগ: সন্ন্যাসের মূল কথা হলো কর্মফলাসক্তি ও ভোগাসক্তি ত্যাগ। এতে মনে শান্তি আসে এবং জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তির পথ সুগম হয়।
    ৪. সতর্কতা: গীতায় বলা হয়েছে, কর্মফলের বাসনা না করে যিনি কর্তব্যকর্ম করেন, তিনিই প্রকৃত সন্ন্যাসী ও যোগী। কেবল কর্ম ত্যাগ করলেই সন্ন্যাস হয় না। তাই দাদুর সন্ন্যাস তখনই সার্থক হবে, যদি তিনি আসক্তি ত্যাগ করে ঈশ্বরচিন্তায় নিবিষ্ট থাকেন।

    সুতরাং, ধর্মশাস্ত্রসম্মত বয়স ও পর্যায়ে পৌঁছে এবং আসক্তি ত্যাগের উদ্দেশ্য নিয়ে দাদুর সন্ন্যাস গ্রহণ যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন