হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

রবিন প্রতিদিন একটি আসন অনুশীলন করে। আসনটি অনুশীলনের ফলে বৃক্ক সবল হয়। শিক্ষা জীবনে লেখাপড়া ভালো হয়। শরীর লম্বা হয়। অপরদিকে, প্রবীর একটি আসন অনুশীলন করে, যার ফলে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়ানো যায়। এ আসন অনুশীলনের সময় শরীর গাছের মতো দেখায়।

  1. ক)

    স্তেয় কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্রত্যাহার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    রবিনের অনুশীলনকৃত আসনটির বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে আসনটির অনুশীলন পদ্ধতি ব্যাখ্য করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রবীরের অনুশীলনকৃত আসনটির মাধ্যমে ব্যক্তি জীবনে কী প্রভাব পড়ে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অপরের জিনিস না বলে অধিকার করাকে স্তেয় (চুরি) বলে।

  2. খ)

    প্রত্যাহার অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে। এটি অষ্টাঙ্গযোগের পঞ্চম ধাপ। দৃঢ়সংকল্প ও অভ্যাসের মাধ্যমে ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী করলে চিত্তে বিষয়ের প্রতি আসক্তি নষ্ট হয় এবং চিত্ত আরাধ্য বস্তুতে নিবিষ্ট হতে পারে।

  3. গ)

    রবিনের অনুশীলনকৃত আসনটি গরুড়াসন।

    গরুড়াসনের প্রভাবে কিডনি (বৃক্ক) ভালো থাকে, দেহ লম্বা হয়, পায়ের ও হাতের শক্তি বাড়ে এবং দেহের ভারসাম্য ঠিক থাকে। উদ্দীপকে রবিনের বৃক্ক সবল হওয়া ও শরীর লম্বা হওয়া এই বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে। এই আসনে দেহভঙ্গি গরুড় পাখির মতো হয়।

    অনুশীলন পদ্ধতি:
    ১. দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
    ২. ডান হাত কনুইয়ের কাছে ভেঙে বাঁ কনুইয়ের নিচ দিয়ে নিয়ে গিয়ে ডান হাতের তালু বাঁ হাতের তালুতে নমস্কারের ভঙ্গিতে রাখতে হবে।
    ৩. এরপর বাঁ পা মাটিতে রেখে ডান পা দিয়ে বাঁ পা পেঁচিয়ে ধরতে হবে।
    ৪. স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে এবং এ অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে।
    ৫. হাত-পা বদল করে আসনটি চারবার অভ্যাস করতে হবে এবং শেষে শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে।

  4. ঘ)

    প্রবীরের অনুশীলনকৃত আসনটি বৃক্ষাসন, কারণ এতে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়ানো যায় এবং দেহ গাছের মতো দেখায়। নিয়মিত অনুশীলনে ব্যক্তিজীবনে এর অনেক ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

    এই আসনে এক পায়ে দাঁড়িয়ে অন্য পায়ের গোড়ালি ঊরুমূলে রেখে নমস্কারের ভঙ্গিতে জোড় হাত মাথার উপর তুলে স্বাভাবিক শ্বাসে ১০ সেকেন্ড স্থির থাকতে হয়।

    ১. শারীরিক ভারসাম্য ও গঠন: শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে। পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায় এবং হাত-পায়ের গঠন সুন্দর হয়।
    ২. মেরুদণ্ড ও কোমরের শক্তি: কোমর ও মেরুদণ্ডের শক্তি বাড়ে, ফলে প্রবীর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ঊরুর সংযোগস্থলের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে।
    ৩. রক্ত সঞ্চালন ও রোগ প্রতিরোধ: হাঁটু, কনুই, বগলের স্নায়ুতন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং গ্রন্থি সবল হয়। পায়ের ব্যথা কমে এবং বাত হয় না। পায়ের ধমনীতে আথেরোমা জমা ও থ্রম্বোসিস রোধ হয়।
    ৪. দুর্বলতা দূর: যাঁদের হাত-পা কাঁপে বা পা দুর্বল, তাঁদের বিশেষ উপকার হয়। ফলে কর্মক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

    সুতরাং, বৃক্ষাসন প্রবীরের শারীরিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বাড়াবে এবং যোগসাধনার জন্য দেহ-মনকে প্রস্তুত করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন