অর্থনীতি • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি প্রশ্ন

আবেদ অর্থনীতির ওপর একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। তিনি লক্ষ করেন অধিকাংশ বক্তা মাথাপিছু আয়কে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। বস্তারা মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির কয়েকটি নির্ধারকেরও আলোচনা করেন।

  1. ক)

    অর্থনীতিতে ভূমি কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈত গণনা সমস্যা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    মাথাপিছু আয় কেন 'একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বস্তাদের আলোচনাকৃত নির্ধারকগুলো তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অর্থনীতিতে ভূমি বলতে শুধু মাটি বোঝায় না, বরং প্রকৃতি থেকে বিনামূল্যে পাওয়া সব দানকে বোঝায়, যেমন মাটি, নদী, বন, খনিজ ও জলবায়ু।

  2. খ)

    দ্বৈত গণনা সমস্যা হলো জাতীয় আয় গণনায় একই দ্রব্যের মূল্য একাধিকবার ধরা। যেমন গম, আটা ও রুটি তিনটির মূল্য আলাদা করে যোগ করলে গমের মূল্য একাধিকবার গণনা হয়ে যায়। এতে জাতীয় আয় প্রকৃত আয়ের চেয়ে বেশি দেখায়। এ সমস্যা এড়াতে শুধু চূড়ান্ত দ্রব্যের মূল্য ধরা হয়।

  3. গ)

    মাথাপিছু আয় হলো মোট জাতীয় আয়কে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া গড় আয়। উদ্দীপকে অধিকাংশ বক্তা একে উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক বলেছেন। এর কারণ নিচে দেওয়া হলো।

    ১. জীবনযাত্রার মান: মাথাপিছু আয় বেশি হলে মানুষের গড় আয় বেশি থাকে, ফলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
    ২. জনসংখ্যার প্রভাব: শুধু মোট আয় বাড়লে হবে না। জনসংখ্যা বাড়লে মাথাপিছু আয় কমে যেতে পারে, তাই এটি উন্নয়নের বাস্তব চিত্র দেয়।
    ৩. তুলনা: এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের উন্নয়নের স্তর তুলনা করা যায়।

    সুতরাং মাথাপিছু আয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বক্তারা মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বৃদ্ধির কয়েকটি নির্ধারক আলোচনা করেছেন। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এ নির্ধারকগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. প্রাকৃতিক সম্পদ: জমি, খনিজ ও বন যত বেশি থাকে, উৎপাদনের সুযোগ তত বাড়ে।
    ২. শ্রম ও মানবসম্পদ: শ্রমিকের সংখ্যা এবং শিক্ষা-প্রশিক্ষণ নির্ভর দক্ষতা উৎপাদন বাড়ায়।
    ৩. মূলধন গঠন: সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়লে মূলধন গঠিত হয় এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ে।
    ৪. প্রযুক্তি: উন্নত প্রযুক্তি কম সম্পদে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করে।
    ৫. সংগঠন ও অন্যান্য: দক্ষ উদ্যোক্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামো উৎপাদনে সহায়তা করে।

    সুতরাং এসব নির্ধারক একত্রে কোনো দেশের জিডিপির পরিমাণ নির্ধারণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন