ব্যবসায় উদ্যোগ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

নাটোরের একটি স্বনামধন্য জুস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার মালিক মি. জিসান সাহেব। বর্তমানে তার কারখানার মূলধনের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা ও শ্রমিক সংখ্যা ৬০ জন। কারখানায় শ্রমিক সংখ্যা যথেষ্ট না হওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই তিনি কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

  1. ক)

    কুটিরশিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    সেবামূলক শিল্প বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিক সংখ্যা বৃদ্ধি ছাড়াও মি. জিসান সাহেব আর কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    'দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে মি. জিসান সাহেবের শিল্পটির ভূমিকা অনেক- উক্তিটির যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কুটিরশিল্প হলো পরিবারের সদস্যপ্রধান শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যেখানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ লক্ষ টাকার নিচে এবং জনবল সর্বোচ্চ ১৫ জন।

  2. খ)

    যন্ত্রপাতি, স্থায়ী সম্পদ বা মেধাসম্পদ ব্যবহার করে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান সেবামূলক কর্ম সম্পাদন করে, তাদের সেবামূলক শিল্প বলে।

    এসব শিল্পে পণ্য উৎপাদন নয়, সেবা প্রদান করা হয়। যেমন মৎস্য আহরণ, নির্মাণ শিল্প ও হাউজিং, অটোমোবাইল।

  3. গ)

    জনাব জিসানের জুস কারখানা উৎপাদনমুখী, যেখানে শ্রমিকের সংখ্যা যথেষ্ট নয়। শ্রমিক বাড়ানো ছাড়াও উৎপাদন বাড়াতে তিনি নিচের পদক্ষেপ নিতে পারেন:
    ১. শ্রমিকদের দক্ষ করা: কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদ্যমান শ্রমিকের দক্ষতা বাড়ালে একই শ্রমিক বেশি উৎপাদন করতে পারে।
    ২. আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার: উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে উৎপাদন বাড়ে এবং ব্যয় কমে।
    ৩. কাঁচামালের নিয়মিত সরবরাহ: ফল জাতীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করতে হবে।
    ৪. অতিরিক্ত পুঁজি সংগ্রহ: প্রয়োজনে ব্যাংক ঋণ নিয়ে সম্প্রসারণ করা যায়।

  4. ঘ)

    জিসান সাহেবের কারখানার মূলধন ১০ কোটি টাকা (৭৫ লক্ষ থেকে ১৫ কোটির মধ্যে) এবং শ্রমিক ৬০ জন (৩১-১২০ জনের মধ্যে)। তাই এটি ক্ষুদ্র শিল্প। উক্তিটি যৌক্তিক, কারণ:

    ১. কর্মসংস্থান: ক্ষুদ্র শিল্প শ্রমঘন। এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান করে, যা বেকারত্ব ও দারিদ্র্য কমায়।
    ২. স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার: জুস কারখানায় স্থানীয় ফল ব্যবহার হয়, ফলে কৃষকরাও উপকৃত হন।
    ৩. অর্থনীতিতে অবদান: দেশের ৯৬ ভাগ শিল্পই কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের আওতাভুক্ত। তাই এ শিল্প দেশের আয় ও উৎপাদন বাড়ায়।
    ৪. আঞ্চলিক উন্নয়ন: নাটোরের মতো এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নত হয়।

    সুতরাং, জিসান সাহেবের শিল্পটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন