ইসলাম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২০

ইসলাম প্রশ্ন

মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিনের একমাত্র সন্তান আ. রহমান ছয় বছর বয়সে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন। ষোল বছর বয়সে রাসুলের (স) অসংখ্য হাদিস হৃদয়ঙ্গম করেন। পরবর্তী সময়ে রাসুলের (স) অসংখ্য বিশুদ্ধ হাদিসের সমন্বয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। একই গ্রামের চাটলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বিজ্ঞানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা যেমন- দ্রবণ, পরিস্রাবণ, লোহার মরিচা রোধক, ইত্যাদি বিষয়ে সফলভাবে সম্পন্ন করেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি বলেন, এ জন্যই মধ্যযুগের একজন মুসলিম মনীষীকে এ শাস্ত্রের জনক বলা হয়।

  1. ক)

    দারুল আরকাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'আমি জ্ঞানের শহর এবং আলি তার দরজা'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আ. রহমানের স্মৃতিশক্তির সাথে কোন মুসলিম মনীষীর সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিজ্ঞান শিক্ষকের কর্মকান্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনীষীকে চিহ্নিতপূর্বক প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দারুল আরকাম হলো মক্কায় সাফা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সাহাবি আরকাম ইবনে আবিল আরকাম (রা.)-এর বাড়ি, যা ইসলামের প্রথম গোপন শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

  2. খ)

    রাসুল (স.) বলেছেন, আমি জ্ঞানের শহর আর আলি তার দরজা। অর্থাৎ রাসুলের কাছ থেকে জ্ঞান পেতে হলে আলি (রা.)-এর মাধ্যমে তা পাওয়া যায়। তিনি রাসুলের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হিসেবে কুরআন-সুন্নাহর গভীর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। সাহাবিরা জটিল বিষয়ে তাঁর কাছে সমাধান চাইতেন।

  3. গ)

    আ. রহমানের স্মৃতিশক্তির সঙ্গে ইমাম বুখারি (র.)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ইমাম বুখারি (র.)-এর নাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারি। তিনি শৈশবেই কুরআন মুখস্থ করেন এবং অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। অল্প বয়সেই বহু হাদিস মুখস্থ করেন এবং যাচাই-বাছাই করে বিশুদ্ধ হাদিস নিয়ে সহিহ আল-বুখারি সংকলন করেন। উদ্দীপকের আ. রহমানও ছয় বছরে কুরআন মুখস্থ করেন, অসংখ্য হাদিস আত্মস্থ করেন এবং বিশুদ্ধ হাদিসের গ্রন্থ রচনা করেন।

  4. ঘ)

    বিজ্ঞান শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ মনীষী জাবির ইবনে হাইয়ান (র.)।

    জাবির ইবনে হাইয়ান মধ্যযুগের মুসলিম বিজ্ঞানী। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রসায়নে দ্রবণ, পরিস্রাবণ, পাতন ও স্ফটিকীকরণের মতো প্রক্রিয়া উদ্ভাবন বা উন্নত করেন। এজন্য তাঁকে রসায়নশাস্ত্রের জনক বলা হয়।

    প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের যথার্থতা:
    ১. জাবিরের রসায়ন চর্চায় দ্রবণ ও পরিস্রাবণের মতো পদ্ধতি ছিল, যা শিক্ষকের পরীক্ষাগুলোর সঙ্গে মেলে।
    ২. তিনি পরীক্ষালব্ধ জ্ঞানকে বিজ্ঞানের ভিত্তি বলে মনে করতেন, ফলে আধুনিক রসায়নের পথ প্রশস্ত হয়।
    ৩. তাঁর গ্রন্থ ইউরোপে অনূদিত হয়ে পরবর্তী বিজ্ঞানীদের প্রভাবিত করে।

    সুতরাং, প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন