হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

চঞ্চল কুমার মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন পঞ্চাশ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। এছাড়াও তিনি এলাকার উন্নয়নের জন্য তার সম্পদের বিশাল একটি অংশ ব্যয় করেন। তিনি মনে করেন, "জীবের মধ্যে এক ঈশ্বর বহুরূপে বিরাজমান এবং সকল সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর।”

  1. ক)

    ঈশ্বরকে কখন ভগবান বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    'বিষ্ণু প্রতিপালনের দেবতা' এ কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে চঞ্চল কুমারের যে গুণটি ফুটে উঠেছে, পাঠের আলোকে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "জীবের মধ্যে এক ঈশ্বর বহুরূপে বিরাজমান এবং সকল সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ঈশ্বর যখন ভক্তের নিকট প্রকাশিত হন বা ভক্ত যখন তাঁকে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য, এই ছয় গুণে গুণান্বিত রূপে উপাসনা করেন, তখন তাঁকে ভগবান বলা হয়।

  2. খ)

    বিষ্ণু হলেন ঈশ্বরের পালনকারী গুণের সাকার রূপ।
    ঈশ্বর সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়, এই তিনটি ক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে স্থিতি বা প্রতিপালনের শক্তি বিষ্ণুর মধ্যে প্রকাশিত। এ বিশ্বে যা কিছু আছে, বিষ্ণু তা পালন ও রক্ষা করেন। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য তিনি অবতাররূপে আবির্ভূত হন। তাই বিষ্ণুকে প্রতিপালনের দেবতা বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে চঞ্চল কুমারের মধ্যে জীবসেবা বা পরোপকারের গুণটি ফুটে উঠেছে।

    জীবসেবার ধারণা: অপরের সন্তোষ বিধানের জন্য দেহ ও মনের সমন্বয়ে যে কল্যাণকর কাজ করা হয়, তাকে সেবা বলে। জীবের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করাকে জীবসেবা বলে। হিন্দুধর্মে জীবসেবা অন্যতম প্রধান ব্রত। 'যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ' অর্থাৎ যেখানে জীব সেখানেই শিব। তাই ঈশ্বরজ্ঞানে জীবসেবা করতে বলা হয়েছে। বুদ্ধি, পরামর্শ, সহানুভূতি ও বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেও জীবসেবা করা যায়।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: চঞ্চল কুমার নিজের জমিতে পঞ্চাশ শয্যার হাসপাতাল গড়ে মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছেন এবং সম্পদের বিশাল অংশ এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করেন। এটি সরাসরি জীবসেবার দৃষ্টান্ত।

    অতএব, চঞ্চল কুমারের কাজে জীবসেবার গুণ প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    'জীবের মধ্যে এক ঈশ্বর বহুরূপে বিরাজমান এবং সকল সৃষ্টির মূলে রয়েছেন ঈশ্বর'- মন্তব্যটি আমি সম্পূর্ণ যথার্থ বলে মনে করি।

    হিন্দুধর্ম মতে, ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। তিনি সবকিছুর স্রষ্টা, পালক ও সংহারক। এই মহাবিশ্বের সবকিছুই তাঁর থেকে সৃষ্ট।

    ১. সৃষ্টির মূলে ঈশ্বর: গীতায় বলা হয়েছে, জীবজগৎ ও জড়জগৎ সবই পরমাত্মা থেকে সৃষ্ট। আদিতে মহাবিশ্ব ছিল না, পরে আলো, জল, পৃথিবী, উদ্ভিদ ও জীবজন্তু সৃষ্টি হয়। এ সবকিছুর মূলে রয়েছেন ঈশ্বর। তাই মন্তব্যের দ্বিতীয় অংশ যথার্থ।
    ২. জীবে ঈশ্বরের অবস্থান: পরমাত্মা জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন। একই পরমাত্মা বহু আত্মারূপে বহু জীবদেহে বিরাজ করেন। তাই বলা হয়েছে 'জীবঃ ব্রহ্মৈব নাপরঃ'। এটিই 'জীবের মধ্যে এক ঈশ্বর বহুরূপে বিরাজমান'-এর অর্থ।
    ৩. ব্যবহারিক প্রয়োগ: স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, 'বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর। জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।' চঞ্চল কুমার হাসপাতাল গড়ে মানুষের সেবা করে প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরেরই সেবা করছেন।
    ৪. ভেদাভেদের অবসান: সকল জীবে ঈশ্বর আছেন, এই উপলব্ধি জাতি-ধর্মের ভেদ দূর করে সবাইকে ভালোবাসতে শেখায়।

    সুতরাং, ঈশ্বর সকল সৃষ্টির মূল এবং আত্মারূপে প্রত্যেক জীবে বিরাজমান। তাই চঞ্চল কুমারের উক্তিটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন