ভূগোল এবং পরিবেশ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৬

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: বিদ্যালয়ের পরিবেশ বিষয়ক প্রতিবেদনে দেখা যায়— বিদ্যালয়ের চারপাশের এলাকার গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে, ফসলের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, নলকূপের পানি কমে গেছে এবং মানুষ দৈনন্দিন কাজে পানির ব্যবহার কমাতে বাধ্য হচ্ছে।দৃশ্যকল্প-২: হঠাৎ করে দেখা যায় যে, নদীর তীরে বসবাসকৃত দুলালের বাড়িটি নদীগর্ভে ভাসছে। পরিবার পরিজন নিয়ে তার আর দুঃখের সীমা নেই।

  1. ক)

    বিপর্যয় কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সুনামি কীভাবে সংঘটিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ দুলাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাতে আর কী কী ক্ষতি হতে পারে বলে তোমার মনে হয়? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিকে বিপর্যয় বলে। অন্যভাবে, কোনো আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা, যা জীবন ও সম্পদের ওপর প্রতিকূল আঘাত হানে, তাকে বিপর্যয় বলে।

  2. খ)

    সুনামি সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে হঠাৎ ঘটা আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে সংঘটিত হয়।
    সমুদ্রের তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প হলে বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হলে সেখানকার পানির বিশাল অংশ হঠাৎ উপরে উঠে যায় বা নিচে নেমে যায়। এতে বিশাল আকৃতির ঢেউ তৈরি হয়।
    পানির নিচে ভূধস বা বিস্ফোরণের কারণেও সুনামি হতে পারে। এই ঢেউ দ্রুত ছুটে এসে উপকূলে আঘাত হানে এবং জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ গাছপালা শুকিয়ে যাওয়া, ফসলের ক্ষেত ফেটে চৌচির হওয়া, নলকূপের পানি কমে যাওয়া এবং পানির ব্যবহার কমাতে বাধ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এগুলো খরার লক্ষণ।
    দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। মাটি তার কোমলতা হারিয়ে রুক্ষ রূপ নেয়, একেই খরা বলে।
    এর ফলে ফসলের ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে যায়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গিয়ে নলকূপে পানি কমে যায়। গাছপালাও শুকিয়ে যায়। অতএব, দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত দুর্যোগটি খরা।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ নদীতীরে বসবাসকারী দুলালের বাড়ি নদীগর্ভে ভেসে যাচ্ছে। তাই সে নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীভাঙনে দুলালের আরও যেসব ক্ষতি হতে পারে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
    ১. জমি ও সম্পদের ক্ষতি: চাষের জমি, ফসল, গবাদিপশু ও আসবাবপত্র নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে তার আয়ের উৎস নষ্ট হবে।
    ২. বাস্তুচ্যুতি ও পেশার পরিবর্তন: বসতভিটা হারিয়ে পরিবারসহ তাকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবে। জীবিকার সন্ধানে শহরে এসে বস্তিতে বাস করার সম্ভাবনা আছে।
    ৩. শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক ক্ষতি: সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আশ্রয়হীনতা ও অপুষ্টিতে রোগব্যাধি দেখা দিতে পারে। প্রতিবেশী ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
    ৪. অবকাঠামোর ক্ষতি: স্কুল, রাস্তা ও বাজার ভেঙে গেলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
    সুতরাং, নদীভাঙনে শুধু বাড়ি নয়, পরিবারের জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা সবই হুমকির মুখে পড়ে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন