বিজ্ঞান • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

বিজ্ঞান প্রশ্ন

ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকতেই আশিক দম্পতির চোখে পড়ে দেয়ালে টাঙানো হাতে আঁকা হূৎপিন্ডের চিত্রের দিকে। যার মাধ্যমে সারা দেতে রক্ত সঞ্চালিত হয়। এই দম্পতির প্রথম সন্তান সুস্থ হলেও পরবই গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা দেখা দেয়। ডাক্তার তাদের রক্ত পরীক্ষা করে Rh ফ্যাক্টরের জটিলতার কথা বললেন।

  1. ক)

    ধমনি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ডায়াবেটিস রোগীদের শৃঙ্খলা মেনে চলা জরুরি কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের অজোর সঞ্চালন প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ডাক্তারের বলা কথাটি আশিক দম্পতির জন্য কতটুকু যৌক্তিক? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে রক্তনালি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত বহন করে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দেয়, তাকে ধমনি বলে।

  2. খ)

    ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা পুরোপুরি নিরাময় হয় না, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনি, চোখ, হৃৎপিণ্ড ও স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে।

    তাই রোগীকে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হয়, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হয়, সময়মতো ওষুধ বা ইনসুলিন নিতে হয় এবং রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করাতে হয়। এই শৃঙ্খলা মেনে চললেই জটিলতা এড়ানো যায়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে হৃৎপিণ্ডের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালনের কথা বলা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া নিম্নরূপ :

    ১. দেহচক্র : হৃৎপিণ্ডের বাম নিলয় সংকুচিত হলে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত মহাধমনি ও এর শাখা-প্রশাখা দিয়ে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দিয়ে রক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইডসহ বর্জ্য সংগ্রহ করে। এই অক্সিজেনবিহীন রক্ত শিরা ও মহাশিরা দিয়ে ডান অলিন্দে ফিরে আসে।
    ২. ফুসফুসীয় চক্র : ডান অলিন্দ থেকে রক্ত ডান নিলয়ে এসে ফুসফুসীয় ধমনি দিয়ে ফুসফুসে যায়। সেখানে কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়ে অক্সিজেন যুক্ত হয়। অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত ফুসফুসীয় শিরা দিয়ে বাম অলিন্দে ফেরে।
    ৩. রক্ত বাম অলিন্দ থেকে বাম নিলয়ে এসে আবার দেহে সঞ্চালিত হয়। এভাবে হৃৎপিণ্ডের ধারাবাহিক সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন চলতে থাকে।

  4. ঘ)

    ডাক্তারের Rh ফ্যাক্টরের জটিলতার কথা আশিক দম্পতির জন্য যথেষ্ট যৌক্তিক।

    উদ্দীপকে প্রথম সন্তান সুস্থ হলেও পরবর্তী গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এটি Rh অসঙ্গতির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে :

    ১. মা Rh নেগেটিভ এবং বাবা Rh পজিটিভ হলে সন্তান Rh পজিটিভ হতে পারে।
    ২. প্রথম গর্ভে শিশুর Rh পজিটিভ রক্তকণিকা মায়ের রক্তে মিশে গেলে মায়ের দেহে অ্যান্টি-Rh অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। প্রথম সন্তানের তাই সাধারণত ক্ষতি হয় না।
    ৩. পরবর্তী গর্ভে সন্তান আবার Rh পজিটিভ হলে মায়ের অ্যান্টিবডি গর্ভের শিশুর লোহিত কণিকা ভেঙে ফেলে। এতে শিশুর রক্তস্বল্পতা, জন্ডিস, এমনকি গর্ভপাত বা মৃত্যু হতে পারে।

    তবে প্রথম সন্তান জন্মের পরপরই মাকে অ্যান্টি-D ইনজেকশন দিলে পরবর্তী গর্ভের ঝুঁকি কমে যায়। সুতরাং, ডাক্তারের পরামর্শ আশিক দম্পতির জন্য অত্যন্ত যৌক্তিক ও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন