ব্যবসায় উদ্যোগ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

জনাব সুমন একজন উদ্ভাবক তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করে নতুন এক প্রকারের ধানের বীজ আবিষ্কার করেন যেটি দুই মাসের মধ্যেই ধান উৎপাদন হবে। তিনি তার পণ্য প্যাকেটজাত করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারজাত করেন, এবং ভালো সাড়া পান। কিছুদিনের মধ্যে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান তার ধানবীজের প্যাকেটের নির্দিষ্ট চিহ্ন নকল করে বাজারজাত করে। কিন্তু তিনি এ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেও কোন আইনগত সহায়তা পাননি।

  1. ক)

    ফ্রানসাইজিং কী?

    (1)
  2. খ)

    কোন বিমাকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয় না-ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    জনাব সুমনের আবিষ্কার কোন সম্পদের অন্তর্ভুক্ত-ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব সুমনের আইন সহায়তা না পাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কোনো খ্যাতনামা কোম্পানির নাম ব্যবহার এবং এর পণ্য তৈরি, বিক্রি বা বিতরণ করার অধিকারকে ফ্র্যানসাইজিং বলে।

  2. খ)

    জীবন বিমাকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয় না। সাধারণ বিমা, যেমন অগ্নি বা নৌ বিমায়, ক্ষতি হলে ক্ষতির পরিমাণ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু জীবন বিমার বিষয়বস্তু মানুষের জীবন, যার ক্ষতি টাকায় পুরোপুরি পূরণ করা যায় না। তাই মেয়াদ শেষে বা মৃত্যুতে বিমাকৃত নির্দিষ্ট অর্থ দেওয়া হয়। এজন্য জীবন বিমাকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয় না।

  3. গ)

    জনাব সুমনের আবিষ্কার মেধাসম্পদ (বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ) এর অন্তর্ভুক্ত।

    ১. মনন ও মেধা দ্বারা সৃষ্ট ব্যবসায়ে প্রয়োগ উপযোগী আবিষ্কার, নকশা, প্রতীক ও নাম মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
    ২. সুমন দীর্ঘদিন গবেষণা করে দুই মাসে ফলন দেওয়া নতুন ধানের বীজ উদ্ভাবন করেছেন। এটি একটি উদ্ভাবন, যা পেটেন্টের মাধ্যমে সংরক্ষণযোগ্য।
    ৩. তার পণ্যের প্যাকেটের নির্দিষ্ট চিহ্ন বা প্রতীক ট্রেডমার্কের আওতাভুক্ত। পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক উভয়ই মেধাসম্পদের অংশ।

    সুতরাং, সুমনের আবিষ্কার ও পণ্যের প্রতীক মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    জনাব সুমনের আইনি সহায়তা না পাওয়ার কারণ হলো তিনি তার আবিষ্কার ও পণ্যের প্রতীক আইনগতভাবে নিবন্ধন করেননি বলে মনে হয়। কারণগুলো—

    ১. ট্রেডমার্ক নিবন্ধন না থাকা: ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করলে মালিক প্রতীক ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার পান। অন্য কেউ অনুমতি ছাড়া তা ব্যবহার করলে আদালতে মামলা করে প্রতিকার পাওয়া যায়। সুমনের প্যাকেটের চিহ্ন নিবন্ধিত না হওয়ায় তিনি এ সুরক্ষা পাননি।
    ২. পেটেন্ট না নেওয়া: পেটেন্ট নিলে আবিষ্কারক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একচেটিয়া মালিকানা পান। তখন অন্য কেউ সেটি তৈরি, ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারে না। সুমন ধানবীজের জন্য পেটেন্ট নিলে নকল ঠেকাতে পারতেন।
    ৩. আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা: নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অসচেতনতাও এর কারণ।

    সুতরাং, পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক নিবন্ধন না করার কারণেই সুমন নকলকারীর বিরুদ্ধে আইনি সহায়তা পাননি। উদ্যোক্তাকে নিজের মেধাসম্পদ নিবন্ধন করা উচিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন