বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

সদ্য স্বাধীন দেশ পুনর্গঠনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সর্বপ্রথম যে কাজটি উল্লেখযোগ্য তা হলো একটি দেশের সর্বোচ্চ আইন বা দলিল। যে আইনটি রচনা করতে "ক" দেশের সময় লেগেছিল দুই বছর, "খ" দেশের নয় বছর। অপরপক্ষে মাত্র নয় মাসে রচিত হয় "গ" দেশের সর্বোচ্চ দলিল।

  1. ক)

    কত তারিখে প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনা কার্যকর হয়?

    (1)
  2. খ)

    ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কময় দিন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন বিষয়টির উপর আলোকপাত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের "গ" দেশের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় রচিত দলিলটি দেশ পরিচালনায় অপরিহার্য'- উক্তিটির সাথে তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনা কার্যকর হয়।

  2. খ)

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী সেনা সদস্য স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে।

    এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর স্ত্রী, তিন পুত্র ও অন্যান্য নিকটাত্মীয় নিহত হন। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। তাই এই দিনটি ইতিহাসে কলঙ্কময়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে একটি দেশের সর্বোচ্চ আইন বা দলিল অর্থাৎ সংবিধান রচনার বিষয়টির উপর আলোকপাত করা হয়েছে।

    সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূল আইন, যাতে সরকারের কাঠামো, নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রের মূলনীতি লিপিবদ্ধ থাকে। অন্যান্য সব আইন সংবিধানের অধীন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের এপ্রিলে ডক্টর কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠিত হয়। কমিটির খসড়া গণপরিষদে পাস হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর এবং এটি কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর। উদ্দীপকে 'গ' দেশের মাত্র নয় মাসে সংবিধান রচনার কথা বলা হয়েছে, যা দ্রুত রাষ্ট্র গঠনের প্রয়াস নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, আমি উক্তিটির সাথে একমত। 'গ' দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় প্রণীত সংবিধান দেশ পরিচালনায় অপরিহার্য।

    ১. শাসনব্যবস্থার ভিত্তি: সংবিধানে সরকারের তিন বিভাগ (আইন, শাসন ও বিচার) এবং তাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারিত আছে। এর ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
    ২. মৌলিক অধিকার ও মূলনীতি: সংবিধানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—এই চার মূলনীতি রয়েছে, যা রাষ্ট্রের লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
    ৩. আইনের শাসন: সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। এর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন বাতিল গণ্য হয়। ফলে শাসকের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ হয়।
    ৪. ভাষা ও বোধগম্যতা: জনগণের মাতৃভাষা বাংলায় রচিত হওয়ায় সবাই সংবিধান বুঝতে পারে, আর ইংরেজি পাঠ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সহায়ক।

    অতএব, সংবিধান ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়; এটি রাষ্ট্রের পথনির্দেশক দলিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন