বাংলা ১ম পত্র • মমতা-দি • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

সবারে বাসিব ভালো, করিব না আত্মপর ভেদসংসারে গড়িবে এক নতুন সমাজ ।মানুষের সাথে কভু মানুষের রবেনা বিচ্ছেদসর্বত্র মৈত্রীর ভাব করিবে বিরাজ।

  1. ক)

    মমতাদির কাজের শৃঙ্খলা দেখে কারা খুশি হলেন?

    (1)
  2. খ)

    মমতাদিকে 'ছায়াময়ী মানবী' বলা হয়েছে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে 'মমতাদি' গল্পের যে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় তা নিরূপণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘মমতাদি' গল্পে উদ্দীপকের মর্মকথা ছাড়াও রয়েছে মমতাদির অপূর্ব গুণের সমাহার”: উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মমতাদির কাজের শৃঙ্খলা ও ক্ষিপ্রতা দেখে বাড়ির সকলে (মা-সহ পরিবারের সবাই) খুশি হলেন।

  2. খ)

    মমতাদি নীরবে নতমুখে কাজ করত, বাড়ির কারও সঙ্গে অকারণে কথা বলত না, কাউকে ভালোবাসার কোনো লক্ষণও দেখাত না। কাজগুলোকে সে আপন করে নিলেও মানুষগুলোর দিকে ফিরে তাকাত না। তার এই শব্দহীন, অনুভূতিহীন ও নির্বিকার আচরণ ছায়ার মতো ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। গল্পের কথকের চোখে সে তাই ম্লানিমার ঐশ্বর্যে মহীয়সী 'ছায়াময়ী মানবী'।

  3. গ)

    উত্তর: উদ্দীপকের সঙ্গে 'মমতাদি' গল্পের সাদৃশ্য হলো মানুষে মানুষে ভেদাভেদহীন ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বোধ।

    উদ্দীপকের বক্তব্য: উদ্দীপকের কবিতাংশে বলা হয়েছে, 'সবারে বাসিব ভালো, করিব না আত্মপর ভেদ'। কবি এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেছেন, যেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের কোনো বিচ্ছেদ থাকবে না এবং সর্বত্র মৈত্রীর ভাব বিরাজ করবে।

    গল্পের সঙ্গে মিল: 'মমতাদি' গল্পে মমতাদি বাড়ির রাঁধুনি, অর্থাৎ সামাজিক অবস্থানে সে গৃহকর্ত্রীর অধীন। তবু কথকের মা তাকে কোমল স্বরে 'বোসো বাছা' বলেছেন এবং তার স্বামীর চাকরি হওয়ার পর বলেছেন, 'তোমার ওপর মায়া বসেছে, তুমি চলে গেলে আমাদেরও কি ভালো লাগবে?' ছোটো খোকাও তাকে 'দিদি' বলে আপন করে নিয়েছে। মমতাদিও খোকাকে স্নেহ দিয়েছে এবং নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে যথাসাধ্য আপ্যায়ন করেছে। এখানে মনিব ও কর্মচারীর শ্রেণিভেদ ছাপিয়ে মানবিক সম্পর্কই বড়ো হয়ে উঠেছে।

    অতএব, উদ্দীপকের আত্মপরভেদহীন ভালোবাসা ও মৈত্রীর ভাব এবং 'মমতাদি' গল্পের শ্রেণিভেদহীন স্নেহ-সম্পর্ক একসূত্রে গাঁথা।

  4. ঘ)

    উত্তর: উক্তিটি যথার্থ। 'মমতাদি' গল্পে উদ্দীপকের মর্মকথা, অর্থাৎ ভেদাভেদহীন ভালোবাসা ও মৈত্রীর পাশাপাশি মমতাদির চরিত্রের নানা অপূর্ব গুণের সমাহার ঘটেছে।

    উদ্দীপকের মর্মকথা: উদ্দীপকে আত্মপরভেদ ভুলে সবাইকে ভালোবাসা এবং মানুষে মানুষে বিচ্ছেদহীন মৈত্রীর কথা আছে। গল্পের মধ্যে এই ভাব স্পষ্ট, কারণ গৃহকর্ত্রী ও কথক মমতাদিকে আপন করে নিয়েছেন। কিন্তু গল্পটি কেবল এইটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়।

    ১. কর্তব্যনিষ্ঠা ও দক্ষতা: মমতাদি যে বিষয়ে উপদেশ পেয়েছে তা পালন করেছে, যে বিষয়ে পায়নি তা নিজের বুদ্ধিতে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছে। তার কাজের শৃঙ্খলা ও ক্ষিপ্রতা দেখে সকলে খুশি হয়েছে।

    ২. আত্মমর্যাদাবোধ: অভাবের কারণে সে কাজ নিয়েছে, কিন্তু অসম্মান সহ্য করেনি। কথক বলেছেন, মা যদি তাকে অবহেলা করতেন তবে পরদিন থেকে সে আর আসত না। সে 'দুবেলা রেঁধে দিয়ে যাবে, কিন্তু খাবে না'—এ শর্তও তার আত্মসম্মানবোধের পরিচয় দেয়।

    ৩. স্নেহশীলতা: খোকাকে সে দিদি বলতে বলেছে, তাকে আদর করেছে, বেশি মিষ্টি খেতে বারণ করেছে এবং নিজের ঘরে ডেকে একটি লেবু খাইয়েছে। 'কারো কাছে যা পাই না, তুমি তা দেবে কেন?'—এই কথায় তার স্নেহবুভুক্ষু মনের পরিচয় মেলে।

    ৪. সংযম ও ব্যথা গোপন করা: গালে চড়ের দাগ সে মশা মারার অজুহাতে লুকিয়েছে এবং ভেতরের কষ্ট প্রকাশ করেনি। এর মধ্য দিয়ে নিজের পারিবারিক দুঃখ ও আত্মসম্মান রক্ষার চেষ্টা প্রকাশ পেয়েছে।

    উদ্দীপকে মূলত মানবপ্রেমের ভাবটিই আছে; সেখানে এই কর্মনিষ্ঠা, আত্মমর্যাদা ও সংযমের মতো বহুমাত্রিক গুণের উল্লেখ নেই।

    সুতরাং, গল্পটি উদ্দীপকের মর্মকথা ধারণ করেই আরও গভীর ও ব্যাপক হয়েছে। উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন