পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
জনাব হাসনাত আদালতের একজন বিচারক। একটি মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে সুস্পষ্ট আইন না থাকায় তিনি অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধির মাধ্যমে উক্ত মামলা নিষ্পত্তি করেন। অপরদিকে তার কন্ধু আরিফ এমন এক পরিষদের সদস্য যেখানে আইন তৈরি করা হয়।
- ক)(1)
আইন কাকে বলে?
- খ)(2)
'সীমাহীন স্বাধীনতা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব হাসনাতের কার্যক্রমের মাধ্যমে আইনের কোন উৎসকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আধুনিক যুগে জনাব আরিফের প্রতিষ্ঠানটি আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
আইন হলো রাষ্ট্রকর্তৃক প্রণীত ও সমর্থিত সেসব নিয়মকানুন, যা মেনে চলতে নাগরিকরা বাধ্য।
- খ)
স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা করার ক্ষমতা নয়। সীমাহীন স্বাধীনতা পেলে প্রত্যেকে নিজের ইচ্ছামতো চললে একজনের স্বাধীনতা অন্যজনের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করবে। তখন শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার চালাবে। ফলে সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। তাই স্বাধীনতার ওপর আইনগত সীমা থাকা জরুরি।
- গ)
আইন না থাকায় জনাব হাসনাত অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধি দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। এটি আইনের উৎস বিচারকের রায়ের নির্দেশ করে।
১. আদালত কোনো মামলায় সুস্পষ্ট আইন না পেলে বিচারক নিজের বিবেক, ন্যায়বোধ ও অভিজ্ঞতা দিয়ে রায় দেন।
২. এই রায় পরবর্তী অনুরূপ মামলার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আইনের মর্যাদা পায়।সুতরাং, জনাব হাসনাতের কার্যক্রম আইনের উৎস বিচারকের রায়কে নির্দেশ করে।
- ঘ)
জনাব আরিফ আইনসভা বা সংসদের সদস্য, যেখানে আইন তৈরি হয়। আধুনিক যুগে আইন প্রণয়নে আইনসভার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
১. জনমতের প্রতিফলন: আইনসভার সদস্যরা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাই তাদের তৈরি আইনে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়।
২. সময়োপযোগী আইন: সমাজের পরিবর্তনের সাথে সঙ্গতি রেখে নতুন আইন তৈরি ও পুরোনো আইন সংশোধন করা যায়।
৩. সুস্পষ্ট ও লিখিত আইন: আইনসভার আইন লিখিত ও নির্দিষ্ট, ফলে নাগরিকরা সহজে জানতে ও মানতে পারে।সুতরাং, আধুনিক যুগে আইনসভা আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও