হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২০

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অজয়দের বাড়ির সকলের শরীরে হঠাৎ করে ফোস্কা উঠে এবং জ্বর হয়। এ অবস্থায় অজয় ভীত হয়ে গুরুদেবের নিকটে যায়। গুরুদেব তিতা পাতা বহনকারী এক বিশেষ দেবীর পূজা করার পরামর্শ দেন। পূজার মধ্য দিয়ে সকলে রোগমুক্ত হয়। অন্যদিকে নিলয় বাবু দশ বছর হল বিবাহ করেছেন। আজও ছেলে-মেয়ের মুখ দেখেননি। ছেলে-মেয়ের মুখ দেখার আশায় নিলয় বাবুর স্ত্রী বিশেষ এক দেবতার পূজা করেন যিনি দেবসেনাপতি নামে পরিচিত।এ পূজার মাধ্যমে নিলয় বাবুর স্ত্রী ছেলে-মেয়ের মুখ দেখতে পেয়ে সুখ লাভ করেন।

  1. ক)

    পৌরাণিক দেবতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কিসের মাধ্যমে বৈদিক ঋষিরা দেব-দেবীর নিকটে যেতে পারতেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    অজয় রোগ নিরাময়ের জন্য গুরুদেবের পরামর্শে যে দেবীর পূজা করে সেই দেবীর পরিচয় ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের নিলয় বাবুর স্ত্রী যে দেবতার পূজা করে ছেলে-মেয়ের মুখ দেখেছেন উক্ত দেবতার পূজার গুরুত্ব ও প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পুরাণে যে সকল দেবতার বর্ণনা করা হয়েছে, তাঁদের পৌরাণিক দেবতা বলে।

  2. খ)

    যজ্ঞের মাধ্যমে বৈদিক ঋষিরা দেব-দেবীর নিকটে যেতে পারতেন।
    বৈদিক উপাসনায় প্রতিমা পূজা ছিল না। হোমানল বা অগ্নিতে ঘৃত, পিঠা, পায়েস ইত্যাদি অর্পণ করে বেদের মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে দেবতাদের আহ্বান করা হতো। তাঁরা সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কর্মকাণ্ডকে একটি বৃহৎ যজ্ঞ মনে করতেন। যজ্ঞই ছিল প্রধান ধর্মকর্ম এবং এর মাধ্যমে ঋষিরা দেব-দেবীর সান্নিধ্য লাভ করতেন।

  3. গ)

    অজয় যে দেবীর পূজা করে রোগমুক্তি পেয়েছে, তিনি দেবী শীতলা। শরীরে ফোস্কা, জ্বর এবং তিতা (ভেষজ) পাতা বহনকারী বৈশিষ্ট্য থেকে এ দেবীকে শনাক্ত করা যায়।

    শীতলা লৌকিক দেবী, অর্থাৎ বেদ ও পুরাণে যাঁদের কথা বলা হয়নি, অথচ ভক্তরা যাঁদের পূজা করেন। গ্রামবাংলায় তিনি ঠাকুরানি নামে পরিচিত এবং শান্তির দেবী হিসেবে সকলের কাছে অতি পরিচিত।

    পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী তিনি রোগ প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দেবী। তিনি মহামারি প্রতিরোধ করেন এবং প্রাণিকুলকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করেন। তাঁকে স্বাস্থ্যবিধি পালন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দেবীও বলা হয়। অজয়ের পরিবারে হঠাৎ ফোস্কা ও জ্বর দেখা দিলে গুরুদেবের পরামর্শে শীতলার পূজা করা হয় এবং সকলে রোগমুক্ত হয়। এতে বোঝা যায়, রোগ নিরাময় ও শান্তি কামনায় শীতলা দেবীর পূজা করা হয়।

  4. ঘ)

    নিলয় বাবুর স্ত্রী দেবসেনাপতি নামে পরিচিত যে দেবতার পূজা করে সন্তান লাভ করেছেন, তিনি কার্তিক। তাঁর পূজার গুরুত্ব ও প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    কার্তিক ভগবান শিবের পুত্র, যুদ্ধের দেবতা ও দেবসেনাপতি। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা তাঁকে রক্ষা কর্মকর্তা হিসেবেও পূজা করেন। আদর্শ ও সুন্দর সন্তান লাভের জন্য তাঁর পূজা করা হয়।

    ১. সন্তানলাভ ও পারিবারিক সুখ: দশ বছর বিবাহের পরও নিঃসন্তান নিলয় বাবু ও তাঁর স্ত্রী কার্তিকের পূজা করে সন্তানের মুখ দেখেছেন। এ পূজা সন্তানলাভের মাধ্যমে পরিবারে সুখ ও পূর্ণতা আনে।
    ২. ন্যায় ও সাহসের শিক্ষা: কার্তিক অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা দেন। পূজারি এ আদর্শ অনুসরণ করে সন্তানদেরও সাহসী ও ন্যায়নিষ্ঠ করে গড়ে তুলতে পারেন।
    ৩. নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তি: রক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পূজিত হওয়ায় ভক্ত নিরাপত্তা ও মানসিক শক্তি লাভ করেন।
    ৪. সামাজিক প্রভাব: পূজা উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মিলন ঘটে, ফলে সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় চেতনা বাড়ে।

    সুতরাং, কার্তিক পূজা পারিবারিক সুখ, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সংহতি গড়ে তোলে এবং ভক্তের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন