বিজ্ঞান • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

বিজ্ঞান প্রশ্ন

স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন তরল পদার্থ য়ার নাম জীবন। ভূপৃষ্ঠে তা আমরা নানাভাবে দূষিত করছি। ফয়সাল তার কারখানায় ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে একটি গ্যাস ব্যবহার করে পানি বিশুদ্ধ করে বোতলজাত করেন। আবির গ্রামে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় তা নিরাপদ করেন।

  1. ক)

    pH কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কচুরিপানা পানির সংস্পর্শ ছাড়া বাঁচতে পারে না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের পদার্থটি দূষণমুক্ত রাখার গুরুত্ব বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ফয়সাল ও আবিরের প্রক্রিয়া দুটির মধ্যে কোনটি অধিক গ্রহণযোগ্য? তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    pH হলো এমন একটি রাশি, যার মাধ্যমে বোঝা যায় পানি বা কোনো জলীয় দ্রবণ এসিডিক, ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ।

  2. খ)

    জলজ উদ্ভিদ সাধারণ উদ্ভিদের মতো শুধু মূলের মাধ্যমে পানি ও অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করে না। এরা সারা দেহের মাধ্যমেই পানি ও প্রয়োজনীয় উপাদান, বিশেষ করে খনিজ লবণ সংগ্রহ করে।
    কচুরিপানা একটি জলজ উদ্ভিদ। তার পুরো দেহ পানির সংস্পর্শে না এলে সে প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ লবণ পায় না, ফলে বাঁচতে বা বেড়ে উঠতে পারে না। তাই কচুরিপানা পানির সংস্পর্শ ছাড়া বাঁচতে পারে না।

  3. গ)

    উদ্দীপকের পদার্থটি হলো পানি, যাকে জীবন বলা হয়েছে। একে দূষণমুক্ত রাখার গুরুত্ব নিচে দেওয়া হলো।

    ১. রোগ প্রতিরোধ: দূষিত পানির মাধ্যমে টাইফয়েড, কলেরা, আমাশয়ের মতো পানিবাহিত রোগ ছড়ায়। পানি দূষণমুক্ত থাকলে এসব রোগের ঝুঁকি কমে।
    ২. জলজ জীবন রক্ষা: পানি দূষিত হলে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায় এবং মাছসহ জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ মারা যায়। দূষণমুক্ত পানি জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।
    ৩. ক্ষতিকর পদার্থ থেকে রক্ষা: পানিতে পারদ, সিসা, আর্সেনিকের মতো ধাতব পদার্থ থাকলে মানুষের মারাত্মক রোগ হয়। পানি নিরাপদ রাখলে এ ঝুঁকি এড়ানো যায়।
    ৪. উন্নয়ন ও পরিবেশ: কৃষিতে সেচ ও শিল্পকারখানার জন্য নিরাপদ পানি দরকার। পানি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও ভূমিকা রাখে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ফয়সাল ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কারখানায় গ্যাস (ক্লোরিন বা ওজোন) ব্যবহার করে পানি বিশুদ্ধ করে বোতলজাত করেন। আবির গ্রামে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায়, অর্থাৎ পানি ফুটিয়ে (স্ফুটন) তা নিরাপদ করেন বলে ধরে নেওয়া যায়। গ্রামীণ ও পারিবারিক ব্যবহারের জন্য আবিরের প্রক্রিয়াটিই অধিক গ্রহণযোগ্য বলে আমি মনে করি।

    ১. সহজ ও সাশ্রয়ী: স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে পানির জীবাণু ধ্বংস হয়। এতে কোনো যন্ত্রপাতি বা রাসায়নিক লাগে না, বাসাবাড়িতে খাওয়ার জন্য এটি সহজ ও কম খরচের।
    ২. ফয়সালের পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা: গ্যাস দিয়ে জীবাণুনাশের জন্য বিশেষ কারখানা, যন্ত্র ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং অধিক খরচ লাগে। ক্লোরিন সঠিক মাত্রায় না দিলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
    ৩. ফয়সালের পদ্ধতির সুবিধা: বাণিজ্যিকভাবে অনেক পানি একসঙ্গে বিশুদ্ধ ও বোতলজাত করতে এটি উপযোগী। তবে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে এটি নয়।

    সুতরাং, বাণিজ্যিক উৎপাদনে ফয়সালের পদ্ধতি উপযোগী হলেও সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ের কারণে আবিরের পদ্ধতিটি অধিক গ্রহণযোগ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন