হিন্দু ধর্ম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

আধ্যাত্মিক চিন্তা-ভাবনায় মগ্ন একজন ইউরোপীয় মহিলা ফ্রান্সের বেশভূষা ত্যাগ করে ভারতের একটি আশ্রমে এসে দীক্ষা গ্রহণ করেন। শেষে তাকে দেয়া হয় ঐ আশ্রমের দায়িত্ব। নানা উন্নয়নমুখী পরিকল্পনায় স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান রূপে প্রতিষ্ঠিত হয় আশ্রমটি। তার একান্ত প্রচেষ্টায় গুরুর পরিকল্পনা অনুযায়ী আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠা করেন।

  1. ক)

    অবতার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    নরেন্দ্রনাথ দত্তের নাম কীভাবে বিবেকানন্দ হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ত্যাগী মহিলার কর্মকাণ্ড তোমার পাঠ্যবইয়ের কার সাথে মিল পাওয়া যায়? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    গুরুর পরিকল্পনা অনুযায়ী নগর প্রতিষ্ঠায় ত্যাগী মহিলার অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ভগবান বিষ্ণু যখন জগতের কল্যাণের জন্য বিভিন্নরূপে বৈকুণ্ঠ থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন তাঁকে অবতার বলা হয়।

  2. খ)

    নরেন্দ্রনাথ দত্ত ঈশ্বর সম্পর্কে নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে যান। রামকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি জন্মালে তিনি তাঁর কাছে ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নেন। এরপর নরেন্দ্রনাথ গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী হন এবং তখন তাঁর নাম হয় বিবেকানন্দ। পরে ভক্তরা তাঁকে স্বামী বিবেকানন্দ বা স্বামীজী বলে ডাকতেন।

  3. গ)

    উদ্দীপকের ত্যাগী মহিলার কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের শ্রীমা চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।

    ধারণা : ফ্রান্সের প্যারিসে ১৮৭৮ সালে শ্রীমা জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মীরা। শৈশব থেকেই তাঁর আধ্যাত্মিক ভাব ছিল। ১৯১৪ সালে তিনি ভারতবর্ষে আসেন এবং পন্ডিচেরীর অরবিন্দ আশ্রমে শ্রীঅরবিন্দের নিকট দীক্ষা নেন। ১৯২০ সালে স্থায়ীভাবে ফিরে এসে ইউরোপীয় বেশভূষা ত্যাগ করে ভারতীয় যোগিনীর বেশ ধারণ করেন। শ্রীঅরবিন্দ নিজেকে একটি ঘরে আবদ্ধ করলে আশ্রমের সমস্ত ভার তাঁর ওপর পড়ে।

    উদ্দীপকের সাথে প্রয়োগ : উদ্দীপকের মহিলা ইউরোপীয়, তিনি ফ্রান্সের বেশভূষা ত্যাগ করে ভারতের আশ্রমে এসে দীক্ষা নেন এবং আশ্রমের দায়িত্ব পান। তাঁর প্রচেষ্টায় আশ্রম খাদ্য, কৃষি, শিল্প, গো-পালন ইত্যাদি বিভাগ নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে এবং তিনি গুরুর পরিকল্পনা অনুযায়ী আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠা করেন। এগুলো শ্রীমার জীবনের সাথে হুবহু মেলে।

    অতএব, উদ্দীপকের ত্যাগী মহিলা শ্রীমার প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    গুরুর পরিকল্পনা অনুযায়ী আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠায় ত্যাগী মহিলার অর্থাৎ শ্রীমার অবদান অসাধারণ।

    ধারণা : শ্রীমা পন্ডিচেরীর অরবিন্দ আশ্রমে শ্রীঅরবিন্দের সহযোগী হয়ে আশ্রমকে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। ১৯৫৪ সালে তাঁর পরিকল্পনা ছিল অরোভিল নগর প্রতিষ্ঠা।

    ১. দায়িত্ব গ্রহণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা : শ্রীঅরবিন্দ নিজেকে আবদ্ধ করলে শ্রীমা সর্বান্তঃকরণে আশ্রমের ভার নেন। পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ দিয়ে আশ্রমের খরচ চালান এবং খাদ্য, কৃষি, শিল্প ও গো-পালন বিভাগ খুলে আশ্রমকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেন।
    ২. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য : তিনি একটি পাঠশালা খোলেন, যা ক্রমে ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্র’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। আশ্রমবাসীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার হাসপাতাল ও ব্যায়ামাগার স্থাপন করেন।
    ৩. অরোভিল নগর : পন্ডিচেরীর কাছে সমুদ্র উপকূলে ১৫ বর্গমাইল ভূমিতে নগরের ভিত্তিস্থাপন হয় ১৯৬৮ সালে। পৃথিবীর ১২টি দেশের মাটি ভিত্তিমূলে রাখা হয়। পরিকল্পনা ছিল এখানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার লোক এক পরিবারের মতো বাস করবে এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা ও আধ্যাত্মিক সাধনার চর্চা হবে। এটি আন্তর্জাতিক মানব-ঐক্যের জীবন্ত ল্যাবরেটরি ও স্বনির্ভর জনপদ হবে।
    ৪. নিষ্কাম কর্ম ও সম্প্রীতি : তিনি কর্মফলে আসক্তি ত্যাগ করে পরের মঙ্গলের জন্য কাজ করেছেন। ভেদাভেদ বিলোপ এবং সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা তাঁর আদর্শ ছিল।

    সুতরাং, শ্রীমার অক্লান্ত শ্রম ও ত্যাগের ফলেই শ্রীঅরবিন্দের পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেয়েছে এবং অরোভিল সম্প্রীতির নগর হিসেবে গড়ে উঠেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন