বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন ফিরোজ। গ্রামের কোনো মানুষের সাথে তাঁর মনে আবছায়া ভেসে ওঠে। সুযোগ পেলে তিনি দেশ, পরিবারের ছবি এঁকে স্মৃতিকে তাজা ও সজীব রাখার অনুভূতি জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। যা ফিরোজকে স্মৃতিপরায়ন করে তোলে। দেশে ফিরে আসতে চাইলে তাঁর স্ত্রী বলেন, 'দেশে তোমার কে আছে?' উত্তরে ফিরোজ বলেন, 'দেশেই তো আমার শিকড়।'
- ক)(1)
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় উল্লিখিত মাছরাঙা কোথায় বসে থাকে?
- খ)(2)
'আমি তিতাস বিদায় জানাই নি' — চরণটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো。
- ঘ)(4)
"দেশেই তো আমার শিকড়।" — উদ্দীপক ও ফিরোজের এই উক্তিটি কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় উল্লিখিত মাছরাঙা পুবের পুকুরের ঝাঁকড়া ডুমুর গাছের ডালে বসে থাকে।
- খ)
কবি জন্মস্থান বা স্বদেশ থেকে দূরে থাকলেও শৈশবের নদী তিতাসের সাথে তাঁর সম্পর্ক শেষ হয়নি। ‘বিদায় জানাই নি’ বলতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি শারীরিকভাবে দূরে গেলেও মনে মনে তিতাসকে ও জন্মভূমিকে ছাড়েননি। এতে কবির জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শিকড়ের টান প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
উদ্দীপকের ফিরোজ বিদেশে থেকেও দেশ, গ্রাম ও পরিবারের স্মৃতি মনে লালন করেন এবং তা ছবি এঁকে ধরে রাখতে চান। ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার কবিও জন্মভূমি ও শৈশবের স্মৃতিকে ভুলতে পারেননি। দুজনের মধ্যেই আছে স্মৃতিকাতরতা এবং জন্মভূমি ও শিকড়ের প্রতি গভীর টান। এটিই উদ্দীপক ও কবিতার সাদৃশ্য।
- ঘ)
ফিরোজ বিদেশে স্থায়ীভাবে থাকলেও দেশে ফিরতে চান এবং বলেন, ‘দেশেই তো আমার শিকড়’। এই উক্তি ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার ভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ।
১. শিকড়ের পরিচয়: মানুষ যেখানেই থাকুক, তার জন্মস্থানই তার আসল পরিচয়। ফিরোজের উক্তিতে এই সত্য প্রকাশ পেয়েছে। কবিও নিজেকে জন্মভূমির কাছে আগন্তুক মনে করেন না।
২. স্মৃতির বন্ধন: ফিরোজ স্মৃতিতে গ্রাম ও পরিবারকে ধরে রাখেন। কবিতায় কবিও নদী ও প্রকৃতির স্মৃতি বহন করেন।
৩. ভালোবাসার টান: বিদেশের সুযোগ-সুবিধা সত্ত্বেও ফিরোজ ফিরতে চান, যা দেশের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা বোঝায়।সুতরাং, ফিরোজের উক্তি কবির আত্মপরিচয় ও শিকড়ের প্রতি টানের সাথে সম্পর্কিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও