পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

প্রমির বসবাসকৃত দেশটি পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি লিখিত আকারে লিপিবন্ধ না, যা ধীরগতিতে গড়ে উঠেছে। দেশে কোনো প্রকার জটিল সমস্যার আবির্ভাব হলে প্রচলিত নিয়ম-নীতির মাধ্যমে সমাধান করা হয়। অন্যদিকে সুমির বসবাসকৃত দেশটি পরিচালনার নিয়ম-নীতি সুনির্দিষ্ট দলিলাকারে লিপিবদ্ধ, যা এই দেশের আইন পরিষদ কর্তৃক প্রণীত। দেশের জটিল কোনো সমস্যা দেখা দিলে দলিলে উল্লেখিত নিয়ম-নীতির মাধ্যমে সমাধান করা হয়।

  1. ক)

    'ম্যাগনাকার্টা' সনদ কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    সংবিধানকে রাষ্ট্রের দর্পণ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    প্রমির বসবাসকৃত দেশের সংবিধান কোন পদ্ধতিতে গড়ে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সুমির বসবাসকৃত দেশের সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সফলতার পূর্বশর্ত-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ম্যাগনাকার্টা সনদ ১২১৫ সালে স্বাক্ষরিত হয়।

  2. খ)

    সংবিধান দেখে একটি রাষ্ট্রের প্রকৃতি জানা যায়। রাষ্ট্র কোন ধরনের সরকারব্যবস্থায় পরিচালিত হয়, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ক্ষমতা কেমন এবং নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য কী, তা সংবিধানেই লেখা থাকে। আয়নায় যেমন মুখের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়, তেমনি সংবিধানে রাষ্ট্রের রূপ ফুটে ওঠে। তাই সংবিধানকে রাষ্ট্রের দর্পণ বলা হয়।

  3. গ)

    প্রমির বসবাসকৃত দেশের সংবিধান বিবর্তনমূলক পদ্ধতিতে গড়ে উঠেছে।

    ব্যাখ্যা: এ পদ্ধতিতে সংবিধান কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বা নির্দিষ্ট সভায় রচিত হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে প্রথা, ঐতিহ্য, আদালতের রায় ও সংসদের আইনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এটি গড়ে ওঠে। উদ্দীপকে প্রমির দেশের নিয়ম-নীতি লিখিত নয়, ধীরগতিতে গড়ে উঠেছে এবং জটিল সমস্যায় প্রচলিত নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা হয়। এগুলো অলিখিত ও বিবর্তিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্য। ব্রিটেনের সংবিধান এ পদ্ধতির উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

  4. ঘ)

    সুমির দেশের সংবিধান লিখিত ও আইন পরিষদ কর্তৃক প্রণীত। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সফলতার জন্য এ ধরনের সংবিধান অপরিহার্য পূর্বশর্ত।

    ১. লিখিত সংবিধান: কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন সুস্পষ্টভাবে লিখিত থাকলে ক্ষমতা নিয়ে বিরোধ কম হয়। উদ্দীপকে সুমির দেশের সংবিধান দলিলাকারে লিপিবদ্ধ, তাই এ শর্ত পূরণ হয়েছে।
    ২. দুষ্পরিবর্তনীয়তা: সংবিধান সহজে পরিবর্তন করা গেলে কেন্দ্র একতরফাভাবে অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই বিশেষ পদ্ধতি ছাড়া সংশোধন করা যায় না, এমন ব্যবস্থা দরকার।
    ৩. সংবিধানের প্রাধান্য ও স্বাধীন বিচার বিভাগ: সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ আইন হলে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ তার ব্যাখ্যা দিলে কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের বিরোধ নিরপেক্ষভাবে মীমাংসা হয়। উদ্দীপকে জটিল সমস্যা দলিলের নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করা হয়।

    সুতরাং, সুমির দেশের মতো লিখিত ও সুনির্দিষ্ট সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সফলতার অন্যতম পূর্বশর্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন