বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    গৌড়ের 'কদম রসুল' ভবনটি নির্মাণের উদ্দেশ্য কী ছিলো?

    (1)
  2. খ)

    বাংলা সাহিত্যের বিকাশে আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনামল বিখ্যাত কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত স্থাপত্যকীর্তি কোন যুগে নির্মিত হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের স্বর্ণযুগ বলা হয়"-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পদচিহ্নের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য গৌড়ের ‘কদম রসুল’ ভবনটি নির্মিত হয়েছিল।

  2. খ)

    আলাউদ্দিন হুসেন শাহ বাংলা সাহিত্যের উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি যোগ্য কবি ও সাহিত্যিকদের পুরস্কার দিয়ে উৎসাহিত করতেন।

    তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস, পরাগল খান ও যশোরাজ খান অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেন। মালাধর বসু ‘শ্রীমদ্ভাগবত’ ও ‘পুরাণ’ এবং কবীন্দ্র পরমেশ্বর ‘মহাভারত’ বাংলায় অনুবাদ করেন। বাংলা সাহিত্যের এই উন্নতির জন্য তাঁর শাসনকাল বিখ্যাত।

  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত স্থাপত্যকীর্তি ঢাকার লালবাগ কেল্লা ও ছোট কাটরার মতো মুঘল স্থাপত্য, যা মুঘল যুগে শায়েস্তা খানের শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল।

    পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, সুবাদার শায়েস্তা খানের (১৬৬৪-১৬৮৮) আমলে ঢাকায় বিচিত্র সৌধমালা গড়ে ওঠে। তাঁর সময়ের উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যের মধ্যে রয়েছে :

    ১. ছোট কাটরা (১৬৬৩), বড় কাটরা থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে অবস্থিত।
    ২. লালবাগ কেল্লা, যার নির্মাণ শায়েস্তা খানের পূর্বেই শুরু হয় এবং ১৬৯০ সালে ইব্রাহিম খানের শাসনকালে শেষ হয়। এর ভেতরে রয়েছে তাঁর কন্যা পরি বিবির মাজার।
    ৩. হোসেনী দালান (১৬৭৬), চকবাজার মসজিদ, সাতগম্বুজ মসজিদ ও বুড়িগঙ্গার তীরের মসজিদ।

    এসব নিদর্শন মুঘল যুগের স্থাপত্যরীতির পরিচয় বহন করে।

  4. ঘ)

    স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য শায়েস্তা খানের যুগকে বাংলায় মুঘলদের ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়। বক্তব্যটি যথার্থ।

    ১. শাসকের অনুরাগ : শায়েস্তা খানের স্থাপত্য শিল্পের প্রতি গভীর অনুরাগের সাক্ষ্য বহন করে বিচিত্র সৌধমালা ও মনোরম সাজে সজ্জিত তৎকালীন ঢাকা নগরী। তাঁর আমলে ঢাকা মুঘল স্থাপত্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
    ২. বহুমুখী নির্মাণ : তাঁর সময়ে ছোট কাটরা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির মাজার, হোসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ ও চক মসজিদ নির্মিত হয়। পরি বিবির মার্বেল পাথরের সমাধি এদেশের সবচেয়ে সুন্দর মুসলিম স্মৃতিসৌধ হিসেবে গণ্য।
    ৩. স্থায়ী স্মৃতি : অন্য কোনো সুবাদার ঢাকায় তাঁর মতো এত বেশি স্মৃতি রেখে যেতে পারেননি। তাই ঢাকাকে ‘শায়েস্তা খানের নগরী’ বলা হয়।

    সুতরাং, স্থাপত্য শিল্পের এই বিপুল বিকাশের কারণেই এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের স্বর্ণযুগ বলা যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন