পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

উদ্দীপক-১: জনাব 'A' সরকারের একটি বিভাগের প্রধান। তার বর্তমান বয়স ৬৫ বছর। তিনি দুই বছর পর অবসরে যাবেন।উদ্দীপক-২: জনাব 'B' আইনসভার প্রধান। তিনি নির্বাহী প্রধান হিসেবে মন্ত্রিসভার সকল সদস্থ্যদের নেতার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কোনো কারণে অনাস্থা ভোটে অপসারিত হলে সমস্ত মন্ত্রিসভার বিলুপ্ত ঘটে।

  1. ক)

    অভিশংসন কী?

    (1)
  2. খ)

    সচিবালয়কে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব A'-এর বিভাগটি বাংলাদেশ সরকারের কোন বিভাগকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "জনাব 'B' রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থার মধ্যমনি" বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদ কর্তৃক রাষ্ট্রপতিকে পদ থেকে অপসারণের পদ্ধতিকে অভিশংসন (Impeachment) বলে।

  2. খ)

    সচিবালয় হলো সরকারের সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধান কার্যালয়সমূহের সমষ্টি। এখানে মন্ত্রী ও সচিবগণ বসেন এবং সরকারের নীতি প্রণয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা এখান থেকেই দেওয়া হয়। দেশের সকল স্তরের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সচিবালয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ও সমন্বিত হয়। এ কারণেই সচিবালয়কে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপক-১ এর জনাব 'A' সরকারের বিচার বিভাগকে নির্দেশ করে।

    ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে জনাব 'A' সরকারের একটি বিভাগের প্রধান, যার বয়স ৬৫ বছর এবং দুই বছর পর অর্থাৎ ৬৭ বছর বয়সে তিনি অবসরে যাবেন। বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারকগণ ৬৭ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন। বিচার বিভাগের প্রধান হলেন প্রধান বিচারপতি। সুতরাং জনাব 'A' এর বিভাগটি বিচার বিভাগ।

    বিচার বিভাগের কাজ হলো আইনের ব্যাখ্যা দেওয়া, বিরোধ নিষ্পত্তি করা, অপরাধীর বিচার ও শাস্তি প্রদান করা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা।

  4. ঘ)

    'জনাব B রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থার মধ্যমণি' — উক্তিটি বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের প্রেক্ষিতে যথার্থ।

    ১. মন্ত্রিসভার নেতা: সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রধান। তাঁর পরামর্শে অন্য মন্ত্রীরা নিযুক্ত হন এবং তাঁর নেতৃত্বেই মন্ত্রিসভা কাজ করে। উদ্দীপকের জনাব 'B'-ও মন্ত্রিসভার নেতা।
    ২. সংসদ ও সরকারের সংযোগকারী: প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা। সংসদ ও শাসন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় তিনিই রক্ষা করেন। রাষ্ট্রপতি নামমাত্র প্রধান, প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
    ৩. নীতি ও পররাষ্ট্র সম্পর্ক: দেশের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর ভূমিকা প্রধান।
    ৪. অনাস্থায় পতন: উদ্দীপকে বলা হয়েছে, অনাস্থা ভোটে তিনি অপসারিত হলে পুরো মন্ত্রিসভার বিলুপ্তি ঘটে। এটি প্রমাণ করে সরকারের অস্তিত্ব তাঁর ওপর নির্ভরশীল।

    সুতরাং, প্রধানমন্ত্রী শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব; তাই উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন