হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: অনাবৃষ্টির কারণে অধীর বাবুদের এলাকায় ভালো ফসল হয়নি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এলাকাবাসী এক বিশেষ পূজার আয়োজন করেন।দৃশ্যকল্প-২: পাঁচদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত পূজায় প্রতিমার সামনে উপবিষ্ট এক ব্যক্তি মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে প্রতিমাকে ফুল দূর্বা নিবেদন করছেন।

  1. ক)

    যজমান কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    "একং সদ্‌ বিপ্রা বহুধা বদন্তি" উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ অধীর বাবু কর্তৃক আয়োজিত পূজার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ প্রতিমার সামনে উপবিষ্ট ব্যক্তিটির গুণাবলির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যার নামে সংকল্প করে পূজা করা হয়, তাকে যজমান বলে।

  2. খ)

    'একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি' ঋগ্বেদের একটি মন্ত্র। এর অর্থ হলো, এক, অখণ্ড ও চিরন্তন ব্রহ্মকে জ্ঞানীরা বহু নামে বর্ণনা করেছেন।
    ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। তিনি যখন নিজের কোনো গুণ বা শক্তিকে বিশেষ রূপে প্রকাশ করেন, তখন তাকে দেবতা বলে। তাই দেব-দেবীরা আলাদা নন, এক ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ বা শক্তির প্রকাশ।

  3. গ)

    অনাবৃষ্টির কারণে ফসল না হওয়ায় অধীর বাবুদের এলাকাবাসী বৃষ্টি কামনায় যে বিশেষ পূজা করেছেন, তা বৈদিক ধারার পূজা বলে ধরা যায়। বৈদিক দেবতা ইন্দ্র, বরুণ প্রভৃতি প্রকৃতিশক্তির দেবতা এবং বৈদিক পূজার মূল পদ্ধতি হলো যজ্ঞ বা হোম।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী বেদে যে সকল দেবতার কথা বলা হয়েছে, তাঁরা বৈদিক দেবতা। যেমন- অগ্নি, ইন্দ্র, মিত্র, রুদ্র, বরুণ, বায়ু, সোম। বৈদিক পূজাপদ্ধতি ছিল যজ্ঞ বা হোমভিত্তিক। এ উপাসনায় প্রতিমা পূজা ছিল না।

    পদ্ধতি: প্রথমে যজমান সংকল্প করে পুরোহিতকে বরণ করেন। তারপর হোমানল বা অগ্নি প্রজ্বলিত করা হয়। বেদের মন্ত্র উচ্চারণ করে অগ্নির মাধ্যমে দেবতাদের আহ্বান করা হয়। প্রজ্বলিত অগ্নিতে দেবতার উদ্দেশ্যে ঘৃত, পিঠা, পায়েস ইত্যাদি আহুতি দেওয়া হয়। এ যজ্ঞের মাধ্যমেই ঋষিরা দেবতাদের সান্নিধ্য লাভ করতেন। অধীর বাবুদের এলাকায় অনাবৃষ্টি দূর করার জন্য এভাবে দেবতার কৃপা প্রার্থনা করা হয়।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এ প্রতিমার সামনে বসে মন্ত্র পাঠ করে ফুল-দূর্বা নিবেদনকারী ব্যক্তি হলেন পুরোহিত। তাঁর গুণাবলি যথার্থ কি না তা মূল্যায়ন করা হলো।

    পুরোহিত শব্দটি 'পুরস্' ও 'হিত' থেকে এসেছে, যার অর্থ যিনি সম্মুখে অবস্থান করেন। যিনি পূজা-অর্চনার অনুষ্ঠান পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং পূজার সময় সকলের অগ্রভাগে থাকেন, তিনিই পুরোহিত। পাঁচদিনব্যাপী দুর্গাপূজায় তিনি এ দায়িত্বই পালন করছেন। তবে এ দায়িত্ব পালনে তাঁর বেশ কিছু গুণ থাকা প্রয়োজন।

    ১. ভাষা ও শাস্ত্রজ্ঞান: পুরোহিতকে সংস্কৃত ভাষা লেখা ও পড়ার দক্ষতা এবং হিন্দুধর্মের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান থাকতে হয়। শুদ্ধভাবে মন্ত্র উচ্চারণ না করলে পূজা সঠিক হয় না। উদ্দীপকের ব্যক্তি মন্ত্র পাঠ করছেন, যা এ গুণের পরিচয়।
    ২. পূজাবিধির জ্ঞান: নিত্যকর্ম, পূজাবিধি ও ধর্মীয় আচারের নিয়ম সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি। ফুল, দূর্বা নিবেদনের মতো কাজ নির্ভুলভাবে করার মধ্যে এর প্রমাণ মেলে।
    ৩. চরিত্রগত গুণ: তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ধৈর্যশীল, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ, শিষ্টাচারসম্পন্ন এবং জনসাধারণের প্রতি মমত্ববোধসম্পন্ন হবেন। কথা ও কাজে তাঁর মিল থাকতে হবে।
    ৪. সময়োপযোগী যোগ্যতা: একালে ব্রাহ্মণ ছাড়াও সংস্কৃত ভাষা ও শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ধর্মনিষ্ঠ যেকোনো বর্ণের ব্যক্তি পৌরোহিত্য করার যোগ্য।

    সুতরাং, উদ্দীপকের ব্যক্তি যদি এসব গুণের অধিকারী হন, তবে তিনি পুরোহিতের দায়িত্ব পালনের যোগ্য এবং তাঁর গুণাবলি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন