বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: কবিরের স্বৈরাচারী ভূমিকার কারণে দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে যা পরবর্তীতে গণআন্দোলনে রূপ লাভ করে। উপায় না দেখে কবির সামরিক বাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়।দৃশ্যকল্প-২: দখলদার বাহিনী থেকে মুক্ত হতে 'ক' অঞ্চলের জনগণ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। জনগণকে দিক-নির্দেশনা দিতে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণের নেতৃত্বে কমিটি গঠিত হয়। কমিটি যুদ্ধের পরিকল্পনা তৈরি করা, মানুষের নিরাপত্তা বিধান ও বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছিল।

  1. ক)

    সংবিধান কী?

    (1)
  2. খ)

    মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা তুলে ধরো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ পাকিস্তান আমলে পূর্ব বাংলার কোন ঘটনা প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "দৃশ্যকল্প-২ এর কমিটির সাথে বাংলাদেশের যে সরকারের মিল পাওয়া যায় তার বলিষ্ঠ ভূমিকাই আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম করে”- উত্তরের' সপক্ষে তোমার যুক্তিদাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, সরকারের কাঠামো ও নাগরিকের অধিকার-কর্তব্য সংবলিত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনগত দলিল।

  2. খ)

    মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নানাভাবে সাহায্য করেছেন। তাঁরা বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন এবং বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ে পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছে ছুটে যান। তাঁরা আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিনিধিদল পাঠান এবং পাকিস্তানকে অস্ত্র-গোলাবারুদ না দেওয়ার আবেদন জানান। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে তাঁদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ব্রিটেনের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ পাকিস্তান আমলে পূর্ব বাংলার ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা প্রতিফলিত হয়েছে।

    আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ১৯৬৮ সালের নভেম্বরে ছাত্র অসন্তোষ দানা বাঁধে, যা ১১ দফা আন্দোলন ও গণআন্দোলনে রূপ নেয়। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান উভয় অংশেই আইয়ুববিরোধী আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। উদ্দীপকে কবিরের স্বৈরাচারী ভূমিকার কারণে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বিক্ষোভ চরম আকার নেওয়া এবং ক্ষমতা সামরিক বাহিনীকে হস্তান্তরের ঘটনা আইয়ুব খানের সাথে মিলে যায়। গণআন্দোলনের চাপে ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ আইয়ুব খান সেনাপ্রধান ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এর কমিটির সাথে বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকারের (অস্থায়ী সরকারের) মিল পাওয়া যায়। এ সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকাই স্বাধীনতার পথ সুগম করেছে।

    ১. নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত এ সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় শপথ নেয়। শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হন। বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ এতে সংগঠিত রূপ পায়।
    ২. যুদ্ধ পরিচালনা: সরকার বাংলাদেশকে সামরিক জোনে ভাগ করে সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ দেয় এবং মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলে। প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল এম. এ. জি ওসমানী।
    ৩. প্রশাসন ও নিরাপত্তা: প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, অর্থ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে এ সরকার শরণার্থী ও জনগণের কল্যাণে প্রশাসন পরিচালনা করে।
    ৪. কূটনৈতিক যোগাযোগ: কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোমে মিশন স্থাপন করে এবং বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ করে বিশ্বজনমত গঠন করে।

    সুতরাং, মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিকল্পনা, নিরাপত্তা বিধান ও বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ সফল করে স্বাধীনতার পথ সুগম করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন