হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
জ্ঞানানন্দ ও জনি দুইজন প্রতিবেশী। জ্ঞানানন্দ সমাজের একজন সম্মানিত ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। তাকে এলাকার সবাই পছন্দ করেন। কারণ, তিনি অত্যন্ত সহনশীল এবং তার চোখে সবাই সমান। তিনি মনে করেন, সবারই। সমান অধিকার রয়েছে। জাতি ধর্ম-বর্ণ বিষয়গুলো তিনি পার্থক্য করেন না। কিন্তু জনি অসৎ প্রকৃতির ও লোভী। তিনি সবসময় অন্যায় কাজে জড়িত থাকেন। এজন্য অন্যায়ের শাস্তিস্বরূপ তাকে অনেকবার কারদণ্ড ভোগ করতে হয়েছে। কারাবাস করেও সে সংশোধন হয়নি।
- ক)(1)
স্মৃতিশাস্ত্র কাকে বলে?
- খ)(2)
বিচারের মানদণ্ড কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জ্ঞানানন্দের চরিত্রে কোন দিকটি লক্ষ করা যায়? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনির পরিণতি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বেদের পরে কর্তব্য-অকর্তব্য বা ধর্ম-অধর্ম নির্ণয়ের জন্য রচিত গ্রন্থাবলিকে স্মৃতিশাস্ত্র বলে।
- খ)
নৈতিক মূল্যবোধই বিচারের মানদণ্ড। কোনটি ভালো বা কল্যাণকর আর কোনটি মন্দ বা অকল্যাণকর, তা বিচার করার যে বোধ বা বিবেচনা শক্তি, তাকেই নৈতিক মূল্যবোধ বলে। এর ভিত্তিতে ঠিক করা হয় কোন আচরণ ধর্ম আর কোনটি অধর্ম। যেমন পরের দ্রব্য অপহরণ নৈতিক মানদণ্ডে অন্যায়, তাই ধর্মের দৃষ্টিতেও অধর্ম। অর্থাৎ নৈতিক মূল্যবোধ হলো বিচারের মানদণ্ড আর ধর্ম হলো সেই বিচারের সিদ্ধান্ত।
- গ)
জ্ঞানানন্দের চরিত্রে ধার্মিকের স্বরূপ, বিশেষ করে সহিষ্ণুতা ও সমদর্শিতা, লক্ষ করা যায়।
ধার্মিকের স্বরূপ: ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ (ধৃতি, ক্ষমা, দম, অস্তেয়, শৌচ, ইন্দ্রিয়-নিগ্রহ, ধী, বিদ্যা, সত্য, অক্রোধ) যিনি নিজের জীবনে অনুসরণ করেন, তিনিই ধার্মিক। ধার্মিক ব্যক্তি কখনো ধৈর্য হারান না, ক্ষমতার দম্ভে পরিচালিত হন না। তিনি বিনয়ী; নিজেকে তৃণের চেয়েও নিচু মনে করেন এবং বৃক্ষের চেয়েও সহিষ্ণু হন। তিনি সমদর্শী—তাঁর কাছে বর্ণভেদ বা জাতিভেদ নেই, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমান মনে করেন।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: জ্ঞানানন্দ সমাজের সম্মানিত ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। তিনি অত্যন্ত সহনশীল, তাঁর চোখে সবাই সমান। তিনি মনে করেন সবারই সমান অধিকার আছে এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য করেন না। এ বৈশিষ্ট্যগুলো ধার্মিকের সহিষ্ণুতা ও সমদর্শিতার সঙ্গে মেলে। হিন্দুধর্মের পরমত সহিষ্ণুতার আদর্শও তাই—ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছেন, 'যত মত তত পথ'। এ কারণেই এলাকার সবাই তাঁকে পছন্দ করেন।
অতএব, জ্ঞানানন্দের চরিত্রে ধার্মিকের স্বরূপই ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
জনির পরিণতি অধার্মিকের পরিণতির সঙ্গে মিলে যায়। পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার পরিণতি ইহলোকে ও পরলোকে অশুভ।
ধারণা: যিনি ধর্মের লক্ষণগুলো মানেন না এবং নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা করেন না, তিনি অধার্মিক। মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, ধর্ম নষ্ট করলে ধর্মই ধর্মনাশকারীকে বিনাশ করে। ধর্মের জয় হয় আর অধর্মের পরাজয় ঘটে।
১. অতৃপ্তি ও অধঃপতন: অধার্মিক সবসময় অতৃপ্ত ও বিষণ্ণ থাকেন। কাম তাঁকে তাড়িত করে, ক্রোধ তাঁকে উত্তেজিত করে, লোভ তাঁকে আকর্ষণ করে এবং তাঁর অধঃপতন ঘটায়। উদ্দীপকের জনি অসৎ ও লোভী; লোভই তাকে অন্যায়ে জড়িয়েছে।
২. ইহলোকে দণ্ডভোগ: অধার্মিক ইহলোকে কুকর্মে লিপ্ত থাকেন এবং কখনো কখনো কৃত কুকর্মের জন্য দণ্ডিত হন। জনি অন্যায় কাজের শাস্তিস্বরূপ বহুবার কারাদণ্ড ভোগ করেছে। তবু সংশোধন না হওয়ায় সে বারবার একই পথে গেছে।
৩. পাপ ও পরলোকে নরকযন্ত্রণা: ধর্মশাস্ত্র অনুসারে কুকর্ম থেকে পাপ অর্জিত হয়, পাপ মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনে। পাপী নরকযন্ত্রণা ভোগ করেন এবং পরে মানবেতর প্রাণীরূপে জন্ম নিয়ে জন্ম-নরকযন্ত্রণা-মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হতে থাকেন।
৪. সংশোধনের সুযোগ: তবে অধর্মের পথ পরিহার করে ধর্মপথে চললে পাপীও পরিশুদ্ধ হয়ে মুক্তি এবং ভগবানের করুণা লাভ করতে পারে। জনি যদি সংশোধিত হয়, সে-ও এ সুযোগ পাবে।সুতরাং, জনির মতো অধার্মিকদের পরিণতি দুঃখ, শাস্তি ও অবনতি। তাই আমাদের উচিত ধর্মপথে চলে সৎ জীবনযাপন করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও