পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
রেহেনা একজন বিধবা নারী। সে তার বসতবাড়ির পাশে শাকসবজি চাষ করেন এবং পুকুরে বিভিন্ন দেশি মাছ ও মাছের পোনা উৎপাদন করেন। এদিকে তার প্রতিবেশী লতিফ সাহেব তার পাশে একটি রং এর কারখানা তৈরি করেন। সেখান থেকে বর্জ্য পদার্থ এসে পুকুরে পড়লে মাছ মরে যাচ্ছে ও শাকসবজির ভালো ফলন হচ্ছে না। তিনি এলাকায় বিচার দিয়েও সুবিচার পাচ্ছেন না।
- ক)(1)
নারী নির্যাতন কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশের নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
লতিফ সাহেবের কর্মকান্ডের ফলে পরিবেশের কী ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট"। উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নারীর প্রতি শারীরিক, মানসিক, যৌন বা অন্য যেকোনো ধরনের সহিংস ও অমানবিক আচরণ, যা নারীর ক্ষতি করে, তাকে নারী নির্যাতন বলে।
- খ)
বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও কুসংস্কার। সমাজের অনেকে নারীকে অধস্তন ও দুর্বল মনে করে। এর সাথে যুক্ত হয় যৌতুক প্রথা, নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্য। আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাব এবং নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবও নির্যাতন বাড়ায়।
- গ)
লতিফ সাহেবের রঙের কারখানার বর্জ্য থেকে পানি ও মাটি দূষণজনিত পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে।
১. পানি দূষণ: কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য পুকুরে পড়ায় পানি বিষাক্ত হচ্ছে। ফলে মাছ ও পোনা মারা যাচ্ছে, যা জলজ জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে।
২. মাটি দূষণ: দূষিত পানি ও বর্জ্যে মাটির উর্বরতা কমে যায়। ফলে রেহেনার শাকসবজির ফলন ভালো হচ্ছে না।
৩. এছাড়া এ দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং খাদ্য উৎপাদন কমায়। - ঘ)
আমি মনে করি, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ এ সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যদি তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়। যুক্তি:
১. সরকারি উদ্যোগ: পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দূষণকারী শিল্পের ওপর নজরদারি, জরিমানা ও কারখানার বর্জ্য শোধনাগার (ETP) বসানোর বাধ্যবাধকতা আছে। পরিবেশ আদালতে ক্ষতিগ্রস্তরা বিচার চাইতে পারে।
২. বেসরকারি উদ্যোগ: বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সচেতনতা তৈরি, আইনি সহায়তা ও দূষণবিরোধী প্রচারণা চালায়। রেহেনার মতো ক্ষতিগ্রস্তরা এদের সহায়তা পেতে পারেন।
৩. সমন্বিত প্রচেষ্টা: সরকার ও বেসরকারি সংস্থা একযোগে কাজ করলে দূষণ প্রতিরোধ ও ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব।সুতরাং, আইন ও সংস্থাগুলো কার্যকরভাবে কাজ করলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ এ সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও