ইসলাম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬

ইসলাম প্রশ্ন

জহির ও রমিজ দুই বন্ধু। জহির তাওহীদে বিশ্বাসী। সে বিশ্বাস করে পরকালে শান্তিময় আবাসস্থল লাভ করতে হলে অবশ্যই আল্লাহর আদেশ নিষেধ ও বিশ্বনবি হযরত মোহাম্মদ (স) এর সুন্নত এর অনুসরণ করতে হবে। পক্ষান্তরে, রমিজ “দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়। সে আল্লাহর বিধি-বিধান মেনে চলতে চায় না। সে মাঝে মাঝে ইসলামের বিরোধিতা করে। এ অবস্থা দেখে তার শিক্ষক তাকে বলেন, তোমার কর্মকাণ্ডের ফলে তুমি পরকালে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করবে।

  1. ক)

    শাফায়াত কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    “আমি কিয়ামতের দিন ন্যায় বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করবো।”—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    জহিরের বিশ্বাস অনুযায়ী শান্তির আবাসস্থলের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকের মন্তব্যের যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কিয়ামতের দিন আল্লাহর অনুমতিক্রমে নবী-রাসূল ও নেককার বান্দাগণ কর্তৃক গুনাহগার মুমিনদের ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করাকে শাফায়াত বলে।

  2. খ)

    কিয়ামতের দিন মানুষের ভালো-মন্দ সকল কাজ ওজন করার জন্য আল্লাহ তাআলা একটি নিখুঁত দাঁড়িপাল্লা বা মীযান (ন্যায়ের মানদণ্ড) স্থাপন করবেন। এ আয়াতে বলা হয়েছে, সেদিন কারও প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না।
    যার নেক আমলের পাল্লা ভারী হবে সে জান্নাত লাভ করবে, আর যার পাল্লা হালকা হবে তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যেকে তার কর্মের যথাযথ প্রতিফল পাবে।

  3. গ)

    জহির তাওহীদে বিশ্বাসী এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ও রাসূল (স)-এর সুন্নত মেনে চলে। তার বিশ্বাস অনুযায়ী পরকালের শান্তির আবাসস্থল হলো জান্নাত।

    জান্নাতের বর্ণনা:
    ১. জান্নাত চিরস্থায়ী সুখ ও শান্তির স্থান; সেখানে কোনো দুঃখ, কষ্ট, ক্লান্তি বা মৃত্যু নেই।
    ২. সেখানে রয়েছে নিচ দিয়ে প্রবহমান ঝরনা, সুশোভিত বাগান ও মনোরম প্রাসাদ।
    ৩. জান্নাতবাসীদের জন্য থাকবে মনের চাহিদামতো উত্তম খাদ্য, পানীয়, পোশাক ও অফুরন্ত নিয়ামত।
    ৪. জান্নাতের সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও তাঁর দীদার (দর্শন) লাভ।

  4. ঘ)

    শিক্ষক রমিজকে যে মন্তব্য করেছেন তা সম্পূর্ণ যথার্থ। কারণ রমিজ দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়, আল্লাহর বিধান মানে না এবং মাঝে মাঝে ইসলামের বিরোধিতা করে। এটি আখিরাতের প্রতি অবিশ্বাস ও উদাসীনতার লক্ষণ।

    ১. ইসলামের দৃষ্টিতে দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, আখিরাত চিরস্থায়ী। যে আখিরাতকে অবহেলা করে দুনিয়াকেই সব মনে করে, সে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে।
    ২. কিয়ামতের দিন মীযানে প্রত্যেকের আমল ওজন করা হবে। আল্লাহর আদেশ অমান্যকারীর নেক আমলের পাল্লা হালকা হবে।
    ৩. আল্লাহ ও ইসলামের বিরোধিতাকারীর জন্য আখিরাতে রয়েছে কঠিন হিসাব ও জাহান্নামের কঠোর শাস্তি।

    সুতরাং, রমিজ যদি তার কর্মকাণ্ড থেকে ফিরে না আসে তবে পরকালে তাকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে, আর শিক্ষকের মন্তব্য এ কারণেই যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন