বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
অংশ-১ : মৃত্যুপথযাত্রী ইমাম হাসান তাঁর বিষদাতার পরিচয় জানতে পেরেও প্রতিশোধ নেননি, বরং তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “তোমাকে বড়ই ভালোবাসিতাম, বড়ই স্নেহ করিতাম, তাহার উপযুক্ত কার্যই তুমি করিয়াছ। তোমার চক্ষু হইতে হাসান বিদায় হইতেছে। সুখে থাকো, তোমাকে আমি ক্ষমা করিলাম।”
অংশ-২ : সম্রাট আওরঙ্গজেব নিজ জীবনে বিলাসিতা পরিহার করে চলতেন। রাজকোষ থেকে অর্থ না নিয়ে নিজ হাতে কুরআন শরীফের প্রতিলিপি তৈরি করতেন এবং তার বিক্রয়ালব্ধ অর্থ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
- ক)(1)
মক্কাবিজয়ের পর হযরত মুহাম্মদ (স.) কোথায় বসে মানুষকে দীক্ষা দান করতেন?
- খ)(2)
'তাহারই দিকে সকলের মহাযাত্রা।' — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের অংশ-১ এ ইমাম হাসান (রা.) এর চরিত্রে হযরত মুহাম্মদ (স.) এর কোন মহৎগুণ প্রকাশ পেয়েছে? 'মানুষ মুহাম্মদ (স.)' প্রবন্ধের আলোকে বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অংশ-২ 'মানুষ মুহাম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক ধারণ করে কি? উত্তরের পক্ষে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মক্কাবিজয়ের পর হযরত মুহাম্মদ (স.) সাফা পর্বতে বসে মানুষকে দীক্ষা দান করতেন।
- খ)
এ উক্তির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, মৃত্যু প্রত্যেক মানুষের জন্য অনিবার্য এবং শেষ পর্যন্ত সবাইকে আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হবে। নবী হোন বা সাধারণ মানুষ, কেউ চিরদিন বেঁচে থাকে না। একমাত্র আল্লাহই চিরঞ্জীব। তাই সবার মহাযাত্রা তাঁর দিকেই।
- গ)
অংশ-১-এ ইমাম হাসান (রা.) বিষদাতাকে চিনতে পেরেও প্রতিশোধ নেননি, বরং তাকে ক্ষমা করেছেন। এতে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ক্ষমা ও উদারতার গুণ প্রকাশ পেয়েছে।
১. 'মানুষ মুহাম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত আছে, তিনি অত্যাচারী শত্রুদের প্রতিও প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করেছেন। মক্কা বিজয়ের পর তিনি দীর্ঘদিনের শত্রুদের ক্ষমা ঘোষণা করেন।
২. ইমাম হাসানও মৃত্যুপথে বিষদাতাকে ক্ষমা করে নবীজির এ আদর্শই অনুসরণ করেছেন।
৩. তাঁর ক্ষমাশীলতা মহানবীর মহত্ত্বের উত্তরাধিকার।তাই অংশ-১-এ হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ক্ষমা ও উদারতার গুণ প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
না, উদ্দীপকের অংশ-২ 'মানুষ মুহাম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক ধারণ করে না। এটি প্রবন্ধের একটি দিককে ধারণ করে।
১. অংশ-২-এর বিষয়: সম্রাট আওরঙ্গজেব বিলাসিতা ত্যাগ করে রাজকোষের অর্থ না নিয়ে নিজ হাতের উপার্জনে জীবন চালাতেন। এখানে সরলতা, স্বাবলম্বন ও পরিশ্রমের দিক প্রকাশ পেয়েছে।
২. প্রবন্ধে সাদৃশ্য: মহানবী (স.) অতি সরল জীবনযাপন করতেন, নিজের কাজ নিজে করতেন এবং বিলাসিতা থেকে দূরে থাকতেন। এ দিকটি অংশ-২-এর সাথে মিলে যায়।
৩. প্রবন্ধের অন্যান্য দিক: প্রবন্ধে নবীজির ক্ষমা, উদারতা, দয়া, ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবপ্রেমের মতো আরও বহু গুণের বর্ণনা আছে। অংশ-২-এ এসব নেই।সুতরাং, অংশ-২ কেবল সরলতা ও স্বাবলম্বনের দিকটি ধারণ করে। তাই এটি প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক ধারণ করে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও