বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    ফকির সন্ন্যাসীরা কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন?

    (1)
  2. খ)

    বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ছবিটি ইংরেজ শাসন আমলে বাংলার কোন ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত আন্দোলনটি প্রেরণা জুগিয়েছে স্বাধীনতা অর্জনে- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ফকির-সন্ন্যাসীরা ধর্মীয় উৎসব ও তীর্থস্থান দর্শন উপলক্ষ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াতেন এবং সাধারণ মানুষের দান ও ভিক্ষার ওপর নির্ভর করে সাধারণ ও নির্মোহ জীবন কাটাতেন।

  2. খ)

    বিদ্যাসাগর বাংলা ভাষায় উন্নতমানের পাঠ্যপুস্তকের অভাব দেখে গদ্যসাহিত্য রচনা শুরু করেন। তিনি বাংলা গদ্যসাহিত্যকে নবজীবন দান করেন।

    শিশুদের জন্য ‘বর্ণ পরিচয়’ (প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ) এবং সংস্কৃত শিক্ষা সহজ করতে ‘উপক্রমণিকা’ রচনা করেন। অনুবাদগ্রন্থও রচনা করেছেন। এসব অবদানের জন্য তাঁকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের ছবিতে বাঁশের কেল্লার ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে, যা তিতুমিরের আন্দোলনের সাক্ষ্য বহন করে।

    তিতুমির ১৮২৭ সালে হজ শেষে ধর্ম সংস্কারে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর আন্দোলনে চব্বিশ পরগনা ও নদীয়ার বহু কৃষক ও তাঁতি সাড়া দেয়। জমিদারদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে সুবিচার চেয়ে ব্যর্থ হয়ে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধের পথ বেছে নেন। ১৮৩১ সালে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিনি প্রধান ঘাঁটি স্থাপন করে একটি শক্তিশালী বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন এবং গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন। ইংরেজ সরকার মেজর স্কটের নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী পাঠায়। কামান-বন্দুকের সামনে বীরের মতো লড়ে তিতুমির নিহত হন এবং গোলার আঘাতে বাঁশের কেল্লা উড়ে যায়। এভাবে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন কৃষক আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল।

  4. ঘ)

    উক্ত আন্দোলনটি অর্থাৎ তিতুমিরের বাঁশের কেল্লার আন্দোলন বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা জুগিয়েছে।

    ১. দুঃসাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক : ইংরেজদের কামান-বন্দুক, নীলকর ও জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির মুখেও তিতুমির বাঁশের কেল্লা গড়ে লড়াই করেন। এটি বাঙালির সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে আছে।
    ২. অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ : জমিদার ও নীলকরদের নির্যাতিত কৃষকরা সংঘবদ্ধ হয়ে এতে যোগ দেয়। এই আন্দোলন শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের শিক্ষা দেয়।
    ৩. পরবর্তী প্রজন্মের প্রেরণা : তিতুমিরের আত্মত্যাগ যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহস জুগিয়েছে এবং স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

    সুতরাং, তিতুমিরের আন্দোলন পরাজিত হলেও এটি স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে বাঙালিকে প্রেরণা জুগিয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন