হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অনিক একজন ছোট বালক। সে অল্প বয়সে শ্রীহরির প্রতি আকৃষ্ট হয়। সকল জায়গায় সে শ্রীহরিকে দেখতে পায়। হরিভক্তির জন্য তাকে তার পিতা বিভিন্ন উপায়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু শ্রীহরির কৃপায় সকল বিপদ থেকে অনিক রক্ষা পায়। অন্যদিকে, নয়ন বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় পথের ধারে একটি নতুন ব্যাগ দেখতে পায়। ব্যাগটিতে টাকা ভর্তি ছিল। ব্যাগের গায়ে লেখা ঠিকানায় ব্যাগটি মালিককে পৌঁছে দিয়ে আসে। মালিক ব্যাগটি পেয়ে খুশি হয়।

  1. ক)

    শিষ্টাচার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মাদক সেবন অধর্ম কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    অনিকের কর্মকান্ডের সাথে-পাঠ্যপুস্তকের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য আছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নয়নের মধ্যে যে গুণটির প্রতিফলন ঘটেছে তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে শিষ্টাচার বলে।

  2. খ)

    মাদক গ্রহণ মাদকসেবীর স্বাভাবিক চেতনাকে বিমূঢ় করে দেয়। তখন তিনি প্রকৃতিস্থ ও সুস্থ থাকেন না এবং অসুস্থ দেহ-মনে অনৈতিক আচরণ করেন।
    মাদক দেহ, মন, অর্থ ও সমাজের ক্ষতি করে। মাদক কেনার অর্থ জোগাড়ে অসৎ উপায় অবলম্বন করতে হয়। তাই মাদক সেবন অনৈতিক ও অধর্মের পথ।

  3. গ)

    অনিকের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের প্রহ্লাদ চরিত্রের সাদৃশ্য আছে। 'ধর্মের জয়' উপাখ্যানে প্রহ্লাদ দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর পুত্র হয়েও পরম হরিভক্ত ছিলেন।

    উপাখ্যান অনুযায়ী হরিবিদ্বেষী রাজা হিরণ্যকশিপু পুত্রের হরিভক্তি সহ্য করতে পারেননি। তিনি প্রহ্লাদকে গুরুগৃহে পাঠান, কিন্তু প্রহ্লাদের পরিবর্তন হয়নি। তখন প্রহ্লাদকে শূল দিয়ে আঘাত, বিষমিশ্রিত অন্ন প্রদান, হাতির পায়ের নিচে ফেলা, সাপের গর্তে নিক্ষেপ এবং পর্বত থেকে সমুদ্রে ছুড়ে ফেলার মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু হরিনামের প্রভাবে প্রহ্লাদ প্রতিবার রক্ষা পান। তিনি সর্বত্র শ্রীহরির অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন।

    সাদৃশ্য: উদ্দীপকের অনিক অল্প বয়সে শ্রীহরির প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং সবখানে শ্রীহরিকে দেখতে পায়। প্রহ্লাদও সর্বত্র হরিকে দেখতেন। অনিকের পিতা তাকে বিভিন্ন উপায়ে মারার চেষ্টা করে, প্রহ্লাদের পিতাও তাই করেছিলেন। উভয়েই শ্রীহরির কৃপায় রক্ষা পান। তাই অনিক প্রহ্লাদের মতোই অবিচল ভক্তির দৃষ্টান্ত।

  4. ঘ)

    নয়নের মধ্যে সততা গুণটির প্রতিফলন ঘটেছে। পাঠ্যপুস্তকের ভাষায় 'সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা'। সততা মানে সৎ থাকা, মিথ্যা, লোভ ও অসৎ উপায় ত্যাগ করা।

    পাঠ্যবইয়ের 'গরিব কাঠুরিয়ার সততা' উপাখ্যানে দেখা যায়, কাঠুরিয়ার লোহার কুঠার নদীতে পড়ে গেলে জলদেবী সোনা ও রুপার কুঠার এনে দিলেও তিনি লোভ না করে নিজের লোহার কুঠারটিই চান। সততায় মুগ্ধ হয়ে জলদেবী তাঁকে সোনা ও রুপার কুঠারও দিয়ে দেন। অন্যদিকে লোভী মোড়ল মিথ্যা বলে সোনার কুঠার দাবি করে সবকিছু হারান।

    ১. লোভহীনতা: নয়ন পথের ধারে টাকাভর্তি ব্যাগ পেয়েও নিজের করে নেয়নি। এটি কাঠুরিয়ার লোভহীনতার সাথে মেলে।
    ২. ঠিকানা খুঁজে ফেরত দেওয়া: ব্যাগের গায়ের ঠিকানায় গিয়ে মালিকের কাছে ব্যাগটি ফেরত দেওয়া অন্যের সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অস্তেয় (চুরি না করা) ধর্মীয় লক্ষণের প্রকাশ।
    ৩. সুফল: ব্যাগ ফিরে পেয়ে মালিক খুশি হয়। সততা অন্যের উপকার করে, নিজের সুনাম ও মনের শান্তি বাড়ায়। কাঠুরিয়াও সততার পুরস্কার পেয়েছিলেন।
    ৪. ধার্মিকের গুণ: চুরি না করা ও সত্যপ্রিয়তা ধর্মের দশ লক্ষণের অংশ। নয়ন তাই ধার্মিকের পথ অনুসরণ করেছে।

    সুতরাং, নয়নের কাজে সততার আদর্শ ফুটে উঠেছে, যা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণ করা উচিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন