যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পদ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    আহা!' শব্দটিকে পদ-অযোগ্য শব্দ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এর নিচে দাগ দেয়া পদটি কি জাত্যর্থক না অজাত্যর্থক? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ এর পদসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় বা ব্যবহৃত হওয়ার যোগ্যতা রাখে, তাকে পদ (Term) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব শব্দ নিজে কখনো কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না এবং অন্য কোনো শব্দের সাহায্যেও ব্যবহৃত হতে পারে না, সেগুলোকে পদ-অযোগ্য শব্দ (Categoriematic Word) বলে।

    'আহা!' একটি আবেগসূচক বা বিস্ময়সূচক অব্যয়। এ জাতীয় শব্দ মনের আকস্মিক আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশ করে মাত্র, কোনো অর্থপূর্ণ ধারণা বা বিষয়কে নির্দেশ করে না। তাই এটি কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। এই কারণে 'আহা!' শব্দটিকে পদ-অযোগ্য শব্দ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এর নিচে দাগ দেয়া পদটি হলো 'সানজিদা'। এটি একটি অজাত্যর্থক পদ।

    যুক্তিবিদ্যায় যে পদের কেবল ব্যক্ত্যর্থ (পরিমাণগত দিক) বা কেবল জাত্যর্থ (গুণগত দিক) থাকে কিন্তু উভয় দিক একসাথে থাকে না, তাকে অজাত্যর্থক পদ (Non-connotative term) বলে। যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, বিশিষ্ট গুণবাচক পদ এবং বিশিষ্ট নামবাচক পদ অজাত্যর্থক।

    উদ্দীপকের 'সানজিদা' পদটি একটি বিশিষ্ট নামবাচক পদ (Proper name)। এটি কোনো ব্যক্তিবিশেষকে নির্দেশ করে, অর্থাৎ এর নির্দিষ্ট ব্যক্ত্যর্থ আছে। কিন্তু কোনো সাধারণ ও আবশ্যিক গুণকে নির্দেশ করে না, অর্থাৎ এর কোনো নির্দিষ্ট জাত্যর্থ নেই। যেহেতু পদটির কেবল ব্যক্ত্যর্থ আছে কিন্তু কোনো জাত্যর্থ নেই, তাই দৃশ্যকল্প-২ এর দাগ দেওয়া 'সানজিদা' পদটি একটি অজাত্যর্থক পদ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত পদগুলো হলো: 'মানুষ', 'সুনাগরিক' এবং 'বাংলাদেশি সুনাগরিক'। এই পদসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মের দৃষ্টিকোণ থেকে সুস্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করা যায়।

    ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের নিয়ম অনুযায়ী, দুটি পদের মধ্যে যদি জাতি-উপজাতির সম্পর্ক থাকে, তবে একটির ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে অপরটির জাত্যর্থ কমে এবং ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে। অর্থাৎ, ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির সম্পর্ক বিদ্যমান।

    উদ্দীপকের পদগুলোর ব্যক্ত্যর্থ (সংখ্যার দিক) বিবেচনা করলে দেখা যায়:
    ১. 'মানুষ' পদের ব্যক্ত্যর্থ সর্বাধিক, কারণ পৃথিবীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সকল মানুষ এর অন্তর্ভুক্ত।
    ২. 'সুনাগরিক' পদের ব্যক্ত্যর্থ 'মানুষ' পদের চেয়ে কম, কারণ সকল মানুষ সুনাগরিক নয়; কেবল ভালো গুণসম্পন্ন নাগরিকরাই এর অন্তর্গত।
    ৩. 'বাংলাদেশি সুনাগরিক' পদের ব্যক্ত্যর্থ সবচেয়ে কম, কারণ এটি কেবল বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমায় থাকা সুনাগরিকদের বোঝায়।
    সুতরাং, ব্যক্ত্যর্থের দিক থেকে ক্রমটি হলো: মানুষ > সুনাগরিক > বাংলাদেশি সুনাগরিক।

    অপরদিকে, পদগুলোর জাত্যর্থ (আবশ্যিক গুণের দিক) বিবেচনা করলে দেখা যায়:
    ১. 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ হলো কেবল 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি'।
    ২. 'সুনাগরিক' পদের জাত্যর্থের মধ্যে মানুষের সাধারণ গুণের সাথে অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হয় নাগরিক গুণাবলি যেমন—সততা, দায়িত্বশীলতা, দেশপ্রেম ইত্যাদি।
    ৩. 'বাংলাদেশি সুনাগরিক' পদের জাত্যর্থে পূর্বোক্ত সব গুণের সাথে আরও যুক্ত হয় 'বাংলাদেশি সত্তা বা জাতীয়তা'। ফলে এর গুণের পরিমাণ সর্বাধিক।
    সুতরাং, জাত্যর্থের দিক থেকে ক্রমটি হলো: বাংলাদেশি সুনাগরিক > সুনাগরিক > মানুষ।

    উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, দৃশ্যকল্প-১ এর পদগুলো ওপর থেকে নিচের দিকে নামলে (মানুষ → সুনাগরিক → বাংলাদেশি সুনাগরিক) ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পায় কিন্তু জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। বিপরীতভাবে, নিচ থেকে ওপরে উঠলে ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায় এবং জাত্যর্থ হ্রাস পায়। এটি ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী পরিবর্তনের নিয়মকে যথাযথভাবে প্রমাণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন