জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ড. রেজা দুটি হলুদ ইঁদুরের মধ্যে ক্রস ঘটান এবং ১ম জনুতে এক-চতুর্থাংশ অপত্য মারা যায়। অন্যদিকে ড. সুমনা বিয়ে করতে গিয়ে শুধুমাত্র রক্তের Rh ফ্যাক্টরজনিত কারণে একটি ছেলেকে বিয়ে করলেন না।
- ক)(1)
সমসংস্থ অঙ্গ কী?
- খ)(2)
ইশিহারা টেস্ট বলতে কী বোঝায় ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ড. রেজার ব্রুসটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ড. সুমনা কি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকের 'ব্রুসটি' শব্দটি বোর্ড পরীক্ষার একটি মুদ্রণজনিত ত্রুটি এবং এটি 'ক্রসটি' হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
যেসব অঙ্গের উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন একই রকম হলেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর ফলে বাহ্যিক গঠন ও কাজ ভিন্ন হয়, তাদেরকে সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous organs) বলে।
- খ)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকের 'ব্রুসটি' শব্দটি বোর্ড পরীক্ষার একটি মুদ্রণজনিত ত্রুটি এবং এটি 'ক্রসটি' হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ইশিহারা টেস্ট (Ishihara test) হলো মানুষের লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা নির্ণয়ে ব্যবহৃত একটি নির্ভরযোগ্য কালার পারসেপশন পরীক্ষা। জাপানি চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. শিনোবু ইশিহারা ১৯১৭ সালে এই পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। এ পরীক্ষায় ব্যবহৃত বিশেষ প্লেট বা চার্টে বিভিন্ন রঙের বিন্দুর পটভূমিতে অন্য রঙের বিন্দু দিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়; যা স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি সহজে পড়তে পারলেও বর্ণান্ধ ব্যক্তিরা বিভ্রান্ত হন বা পড়তে পারেন না।
- গ)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকের 'ব্রুসটি' শব্দটি বোর্ড পরীক্ষার একটি মুদ্রণজনিত ত্রুটি এবং এটি 'ক্রসটি' হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ড. রেজার ক্রসটি মেন্ডেলীয় অনুপাতের ব্যতিক্রম 'লিথাল জিন' (মরণ জিন) এর প্রভাব নির্দেশ করে। ফরাসি জিনতত্ত্ববিদ লুসিয়েন কুয়েনো (Lucien Cuénot) হলুদ রঙের ইঁদুরের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম এ লিথাল জিনের উপস্থিতি লক্ষ করেন।
ইঁদুরের হলুদ গাত্রবর্ণের জন্য দায়ী প্রকট জিন 'Y' একটি লিথাল জিন এবং এটি স্বাভাবিক বা অগৌটি বর্ণের প্রচ্ছন্ন জিন 'y'-এর ওপর প্রকট। তবে হলুদ বর্ণের হোমোজাইগাস অবস্থা (YY) ভ্রূণাবস্থায় প্রাণঘাতী হওয়ায় এ ধরনের ভ্রূণ গর্ভাশয়েই মারা যায়। ফলে বেঁচে থাকা সকল হলুদ ইঁদুরই বিষমসংকর বা হেটারোজাইগাস (Yy) প্রকৃতির।
ড. রেজার ক্রসটির জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা:
- ফিনোটাইপ (পিতামাতা): হলুদ ইঁদুর × হলুদ ইঁদুর
- জিনোটাইপ: Yy × Yy
- গ্যামেট: (Y), (y) এবং (Y), (y)
- ১ম জনুর (F1) ফলাফল:
- YY (হোমোজাইগাস হলুদ): ভ্রূণাবস্থায় মারা যায় (১/৪ অংশ বা ২৫%)
- Yy (হেটারোজাইগাস হলুদ): জীবিত থাকে (২/৪ অংশ বা ৫০%)
- yy (হোমোজাইগাস অগৌটি): জীবিত থাকে (১/৪ অংশ বা ২৫%)
অতএব, F1 জনুর এক-চতুর্থাংশ অপত্য (YY) মারা যাওয়ার কারণে বেঁচে থাকা ইঁদুরগুলোর ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১-এর পরিবর্তে পরিবর্তিত হয়ে ২:১ (হলুদ : অগৌটি) হয়।
- ঘ)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকের 'ব্রুসটি' শব্দটি বোর্ড পরীক্ষার একটি মুদ্রণজনিত ত্রুটি এবং এটি 'ক্রসটি' হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ড. সুমনার সিদ্ধান্তটি চিকিৎসাবিজ্ঞান ও আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক বা যুক্তিযুক্ত ছিল না। নিচে এর কারণ ও যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো:
উদ্দীপক থেকে অনুধাবন করা যায়, ড. সুমনা সম্ভবত Rh নেগেটিভ (Rh-) রক্তের অধিকারী ছিলেন এবং তিনি Rh পজিটিভ (Rh+) রক্তের ছেলেকে বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী, Rh নেগেটিভ নারীর সাথে Rh পজিটিভ পুরুষের বিয়ে হলে গর্ভস্থ সন্তান Rh পজিটিভ হতে পারে। প্রথম সন্তান স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিলেও প্রসবকালীন অমরা ফেটে সন্তানের কিছু Rh+ লোহিত রক্তকণিকা মায়ের রক্তে প্রবেশ করলে মায়ের দেহে অ্যান্টি-Rh অ্যান্টিবডি (অ্যান্টি-ডি) তৈরি হয়। ফলে দ্বিতীয় বা পরবর্তী গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সেই অ্যান্টিবডি অমরা অতিক্রম করে ভ্রূণের লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে মারাত্মক রক্তাল্পতা ও জন্ডিস সৃষ্টি করতে পারে, যাকে 'এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিট্যালিস' (Erythroblastosis fetalis) বলে।
তবে বর্তমান আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য:
১. প্রথম সন্তান প্রসবের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে Rh- মাকে অ্যান্টি-ডি গামা গ্লোবুলিন ইনজেকশন (Anti-D injection বা RhoGAM) দিলে মায়ের রক্তে প্রবেশ করা ভ্রূণীয় Rh+ কোষ ধ্বংস হয়ে যায় এবং মায়ের দেহে স্থায়ীভাবে কোনো অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারে না।
২. এর ফলে পরবর্তী গর্ভধারণেও সন্তান সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জন্মলাভ করে।সুতরাং, রক্তের Rh ফ্যাক্টরজনিত অমিলের ঝুঁকি আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে সহজেই ও শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হওয়ায় শুধুমাত্র এই কারণে বিয়ে ভেঙে দেওয়া ড. সুমনার জন্য সঠিক কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও