‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

পাকিস্তানের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জোটবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করে এবং নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।

  1. ক)

    মজলুম জননেতা কাকে বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    স্বদেশি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে নির্বাচনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তাতে বিজয়ী জোটের জয়ের কারণ উল্লেখ করো। ৩

    (3)
  4. ঘ)

    ইঙ্গিতকৃত নির্বাচনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে বিদেশি পণ্য বর্জন এবং স্বদেশি পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর যে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকে স্বদেশি আন্দোলন বলা হয়। এটি মূলত ব্রিটিশ শাসনবিরোধী একটি অর্থনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ছিল, যার লক্ষ্য ছিল ভারতীয় স্বনির্ভরতা অর্জন এবং ইংরেজদের অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত হানা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয়ের প্রধান কারণসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:

    ১. ২১ দফার গণমুখী কর্মসূচি: যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার '২১ দফা' ছিল বাংলার কৃষক, শ্রমিক ও মধ্যবিত্তের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক (যেমন—বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা, জমিদারি প্রথা বিলোপ ইত্যাদি)।
    ২. মুসলিম লীগের ব্যর্থতা ও জনবিচ্ছিন্নতা: ভাষা আন্দোলনের দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং দুর্নীতি মুসলিম লীগকে চরমভাবে অজনপ্রিয় করে তোলে।
    ৩. জনপ্রিয় শীর্ষ নেতাদের ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মওলানা ভাসানীর মতো গ্রহণযোগ্য নেতাদের একতাবদ্ধ হওয়া এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সক্রিয় ভূমিকা যুক্তফ্রন্টের বিজয় নিশ্চিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে গভীর ও সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব বহন করে।

    এই নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিদার রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটে এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসনের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এটি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম সুস্পষ্ট ও ব্যালটভিত্তিক বিজয়, যা প্রমাণ করে যে পাকিস্তানের শাসনভার বাঙালিদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এ নির্বাচনের ফলেই বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া অনিবার্য হয়ে ওঠে। এছাড়া, যুক্তফ্রন্টের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও সাফল্য পরবর্তীকালে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।

    পরিশেষে বলা যায়, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন বাঙালিদের মধ্যে রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের অদম্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন