বিজ্ঞান • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
বিজ্ঞান প্রশ্ন
হেলালদের বাড়ি নদীর পাড়ে। আগে তারা নদীর পানি সংগ্রহ করে সহজ এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ করে পান করতো এবং গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করতো। কিন্তু বর্তমানে নদীর গা ঘেঁষে কারখানা গড়ে উঠেছে যার বর্জ্য নিষ্কাশন নলটি নদীর সাথে যুক্ত আছে। ফলে নদীর পানি এতটাই দুর্গন্ধযুক্ত ও বিষাক্ত হয়ে পড়েছে যে তা ব্যবহার করাই দুষ্কর।
- ক)(1)
লোনা পানি কাকে বলে?
- খ)(2)
পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
আগে হেলালদের পানকৃত পানি কী উপায়ে বিশুদ্ধ করা হতো? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত নদীর বর্তমান অবস্থা উদ্ভিদ ও প্রাণীর উপর কী প্রভাব ফেলে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সমুদ্র বা মোহনার যে পানিতে প্রচুর পরিমাণ লবণ (প্রায় ৩.৫%) দ্রবীভূত থাকে, তাকে লোনা পানি বলে।
- খ)
পানি পোলার (মেরুযুক্ত) অণু এবং এর অণুগুলো পরস্পরের সঙ্গে ও অন্য পদার্থের কণার সঙ্গে হাইড্রোজেন বন্ধন গঠন করতে পারে। ফলে লবণ, চিনি, অ্যাসিড, ক্ষার ও বিভিন্ন গ্যাসসহ অসংখ্য পদার্থ পানিতে সহজে দ্রবীভূত হয়। এ কারণে প্রকৃতি ও জীবদেহে পানি সবচেয়ে বেশি পদার্থের দ্রাবক হিসেবে কাজ করে। তাই পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।
- গ)
হেলালদের পানকৃত পানি সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ করা হতো। পদ্ধতিটি নিম্নরূপ।
১. ফিটকিরি ব্যবহার: নদীর পানিতে ফিটকিরি মিশিয়ে নাড়লে ভাসমান ময়লা জমাট বেঁধে নিচে থিতিয়ে পড়ে।
২. ছাঁকন/পরিস্রাবণ: থিতানো পানি পরিষ্কার কাপড় বা ফিল্টারে ছেঁকে নিলে অদ্রবণীয় কণা আলাদা হয়।
৩. ফুটানো: ছাঁকা পানি অন্তত ২০ মিনিট ফুটালে জীবাণু মারা যায়।এই পদ্ধতিগুলো সহজ, কম খরচে করা যায় এবং ঘরেই প্রয়োগ করা সম্ভব।
- ঘ)
নদীর বর্তমান অবস্থা উদ্ভিদ ও প্রাণীর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
১. কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে ভারী ধাতু ও রাসায়নিক থাকায় মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়।
২. বর্জ্য পচে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায়, ফলে জলজ প্রাণীর শ্বসন ব্যাহত হয়।
৩. পানি ঘোলা ও দূষিত হলে আলো ঢুকতে পারে না। ফলে জলজ উদ্ভিদের আলোকসংশ্লেষণ কমে যায় এবং খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪. বিষাক্ত পদার্থ জলজ জীবের দেহে জমা হয়ে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দেহে পৌঁছে রোগ সৃষ্টি করে।সুতরাং, দূষণের ফলে পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও