ভূগোল এবং পরিবেশ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

ঋতুর নাম | ঋতুর বৈশিষ্ট্য
A | গড় তাপমাত্রা ২৭° সে.মি.। বায়ু প্রচুর জলীয়বাষ্প সমৃদ্ধ থাকে। শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়।
B | সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সে.সি.। গড় বৃষ্টিপাত ৫১ সে.মি.। এই সময়ে কালবৈশাখী ঝড় হয়।
C | সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সে.সি.। বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।

  1. ক)

    টিলা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মৌসুমি বায়ু বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'A' ঋতু চিহ্নিত করে এর বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'B' ও 'C' ঋতুর মধ্যে কোনটি মানব জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে বেশি আরামদায়ক তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৩০ থেকে ৯০ মিটার উঁচু ছোট ছোট পাহাড়কে স্থানীয়ভাবে টিলা বলে।

  2. খ)

    মৌসুমি বায়ু হলো ঋতুভেদে দিক পরিবর্তনকারী বায়ু। এ বায়ু গ্রীষ্মকালে সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে (দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু) এবং শীতকালে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে (উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু) প্রবাহিত হয়। বর্ষাকালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সমুদ্র থেকে জলীয়বাষ্প বয়ে এনে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টি ঘটায়। 'মৌসুম' শব্দ থেকেই এর নাম।

  3. গ)

    'A' ঋতুতে বায়ু প্রচুর জলীয়বাষ্প সমৃদ্ধ থাকে এবং শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়। এটি বর্ষাকাল।

    বর্ণনা:
    ১. সময়: সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল থাকে।
    ২. তাপমাত্রা: এ সময় গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৭° সেলসিয়াস। আর্দ্রতা বেশি থাকে।
    ৩. বায়ুপ্রবাহ: ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রচুর জলীয়বাষ্প বয়ে আনে।
    ৪. বৃষ্টিপাত: এ বায়ু শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি ঘটায়। বছরের মোট বৃষ্টিপাতের অধিকাংশই এ ঋতুতে হয়। কখনো কখনো বন্যা দেখা দেয়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'B' ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪°C এবং কালবৈশাখী ঝড় হয়, এটি গ্রীষ্মকাল। 'C' ঋতুতে বৃষ্টি প্রায় হয় না এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯°C, এটি শীতকাল। এ দুটির মধ্যে শীতকাল ('C') মানবজীবনের জন্য বেশি আরামদায়ক।

    ১. তাপমাত্রা: গ্রীষ্মে তাপমাত্রা বেশি (৩৪°C) ও আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমে অস্বস্তি হয়। শীতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা মৃদু ও আরামদায়ক।
    ২. আবহাওয়া: গ্রীষ্মে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হয়। শীতে আকাশ পরিষ্কার ও আবহাওয়া শান্ত থাকে।
    ৩. কর্মকাণ্ড: শীতে বৃষ্টি না থাকায় চলাফেরা, হাটবাজার ও ফসল তোলার মতো কাজ সহজ হয়। শীতকালে রবিশস্য চাষের সময়।
    ৪. শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় বাংলাদেশে কিছু মানুষ কষ্ট পেলেও সামগ্রিকভাবে এটি অধিক আরামদায়ক।

    সুতরাং, শীতকাল গ্রীষ্মকালের চেয়ে বেশি আরামদায়ক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন