হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
উদ্দীপক-১: হিমেশ দশম শ্রেণির ছাত্র। বর্তমানে সে মাঝে-মধ্যেই স্কুলেঅনুপস্থিত থাকে। ধর্মীয় শিক্ষক বিকাশ বাবু হিমেশের খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সে পেটের পীড়া বিশেষ করে অজীর্ণ, অম্বল ও আমাশয়ে ভুগছে। তাছাড়া তার হজমশক্তিও কম। তখন বিকাশ বাবু তাকে একটি বিশেষ আসনের অনুশীলন পদ্ধতি শিখিয়ে দৈন। আসনটি অনুশীলনের সময় হিমেশের দেহ দেখতে অনেকটা কচ্ছপের মতো দেখায়।উদ্দীপক-২: এক সময় পরেশের হাত-পা কাঁপত ও পায়ে শক্তি কম পেত। পরেশের বিষয়টি জানতে পেরে একজন যোগসাধক তাকে একটি বিশেষ আসনের অনুশীলন পদ্ধতি শিখিয়ে দেন। আসনটি অনুশীলনের ফলে পরেশ এখন আগের তুলনায় অনেক ভালো আছে। সে এখন অনেক বেশি হাসি-খুশি থাকে।
- ক)(1)
প্রহ্লাদ কোন কুলে জন্মগ্রহণ করেছিল?
- খ)(2)
সমাজের প্রথম স্তর সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
হিমেশ যে আসনটি অনুশীলন করে তার পদ্ধতি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
পরেশের অনুশীলনকৃত আসনটির কোনো প্রভাব আছে কি? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
প্রহ্লাদ দৈত্যকুলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর পুত্র ছিলেন।
- খ)
পরিবারই সমাজের প্রথম স্তর। মানুষ জন্মের পর প্রথমে পরিবারেই বড় হয় এবং সেখান থেকেই ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখে। পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ গোটা পরিবারের উপর প্রভাব ফেলে। তাই সমাজকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। পরিবারের বড়দের উচিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া।
- গ)
হিমেশ যে আসনটি অনুশীলন করে, সেটি অর্ধকূর্মাসন।
'কূর্ম' অর্থ কচ্ছপ। এই আসনে আসনকারীর দেহ অনেকটা কচ্ছপের পিঠের মতো দেখায় বলে একে অর্ধকূর্মাসন বলে। উদ্দীপকে হিমেশের দেহ কচ্ছপের মতো দেখায় এবং আসনটি অজীর্ণ, অম্বল ও আমাশয়ে উপকারী, যা এই আসনের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে।
অনুশীলন পদ্ধতি:
১. প্রথমে হাঁটু গেড়ে বসতে হবে। দুই হাঁটু ও দুই পায়ের পাতা জোড়া থাকবে, নিতম্ব থাকবে গোড়ালির উপর এবং পায়ের তলা উপরের দিকে ফেরানো থাকবে। হাত হাঁটুর উপর আরাম করে রাখতে হবে।
২. এরপর হাত দুটি সোজা করে দুই কানের পাশ দিয়ে মাথার উপর তুলে নমস্কারের ভঙ্গিতে তালু জোড়া করতে হবে এবং এক হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে অন্যটির বুড়ো আঙুল জড়িয়ে ধরতে হবে। মেরুদণ্ড সোজা থাকবে।
৩. তারপর হাত সোজা রেখে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে প্রণামের ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হবে এবং জোড়া তালু যতদূর সম্ভব সামনে মাটিতে রাখতে হবে। নিতম্ব যেন গোড়ালি থেকে উঠে না পড়ে।
৪. শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ৩০ সেকেন্ড নিশ্চল থাকতে হবে। এরপর নিঃশ্বাস নিতে নিতে আগের অবস্থায় ফিরে হাত-পা সোজা করে ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে।
৫. এভাবে মোট তিনবার করতে হবে।এভাবে নিয়মিত অনুশীলন করলে হিমেশ তার পেটের অসুখ থেকে মুক্তি পাবে।
- ঘ)
পরেশের অনুশীলনকৃত আসনটি বৃক্ষাসন। উদ্দীপকে পরেশের হাত-পা কাঁপত ও পায়ে শক্তি কম ছিল। আসনটি অনুশীলনের পর তিনি এখন ভালো আছেন এবং হাসি-খুশি থাকেন। পাঠ্যবই অনুযায়ী বৃক্ষাসনের এ ধরনের প্রভাব আছে।
এই আসনে আসনকারীর দেহ বৃক্ষের মতো হয় বলে একে বৃক্ষাসন বলে। এতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে অন্য পায়ের গোড়ালি ঊরুমূলে রেখে হাত জোড় করে মাথার উপর তুলে ১০ সেকেন্ড নিশ্চল থাকতে হয়। এর প্রভাবগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. হাত-পা কাঁপা ও দুর্বলতা দূর: পাঠ্যবইয়ে স্পষ্ট বলা আছে, যাঁদের হাত-পা কাঁপে ও পা দুর্বল, তাঁদের এই আসনে খুব উপকার হয়। পরেশের সমস্যাও তা-ই।
২. পায়ের শক্তি ও ভারসাম্য: এতে পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে, পায়ে জোর পাওয়া যায়, শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে। কোমর ও মেরুদণ্ডের শক্তিও বাড়ে।
৩. রক্ত সঞ্চালন ও গঠন: হাঁটু, কনুই, বগলের স্নায়ুতন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, গ্রন্থি সবল ও নমনীয় হয় এবং হাত-পায়ের গঠন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়। পায়ের ব্যথায় উপকার হয় ও বাত হয় না।
৪. মানসিক প্রশান্তি: শারীরিক সুস্থতা ফিরে এলে মনও প্রফুল্ল থাকে, যা পরেশের হাসি-খুশি থাকার মধ্যে দেখা যায়।সুতরাং, বৃক্ষাসনের অনুশীলনের প্রভাব পরেশের উপর স্পষ্টভাবে পড়েছে। এ আসন শরীর ও মন উভয়কে সুস্থ রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও