বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্য-১: রাসেলের বিয়ে উপলক্ষ্যে তার অভিভাবকরা এক তভিনব পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনানুসারে রাসেল ঘোড়ায় করে কনের বাড়িতে যাবে। আবার কনেকে পালকিতে চড়িয়ে নিজের বাড়ি নিয়ে আসবে। বাকি অতিথিরা নৌকাযোগে যাতায়াত করবে।দৃশ্য-২: রবিনের দেশে প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল উৎপাদিত হয়। সাধারণ পোশাক থেকে শুরু করে প্রচুর বিলাসী পোশাকও তৈরি হতো।
- ক)(1)
অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা কী?
- খ)(2)
প্রাচীন বাংলার সামাজিক জীবনে জাতিভেদ প্রথার কীরূপ প্রভাব ছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
প্রাচীন বাংলার সমাজের কোন দিকটি রাসেলের অভিভাবকদের পরিকল্পনায় ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"দৃশ্য-২ এর রবিনের দেশের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকার কারণে অভ্যন্তরীণ হুক-১ বহির্বাণিজ্যে প্রাচীন বাংলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল”- যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা প্রাচীন বাংলায় প্রচলিত বৌদ্ধ ধর্মের মহাযান শাখার একটি ধর্মগ্রন্থ।
- খ)
প্রাচীন বাংলার সমাজে হিন্দুদের মধ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এ চারটি বর্ণভেদ ছিল এবং প্রত্যেক বর্ণের নির্দিষ্ট পেশা ছিল। ব্রাহ্মণরা অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করে সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা পেত। ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ, বৈশ্যদের ব্যবসা-বাণিজ্য, আর শূদ্ররা কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও ছোটখাটো কাজ করত। উঁচু শ্রেণির হাতে ক্ষমতা থাকায় সাধারণ মানুষের জীবন তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো। এ নিয়ন্ত্রণ বৌদ্ধদের প্রতি অধিক ছিল।
- গ)
রাসেলের অভিভাবকদের পরিকল্পনায় প্রাচীন বাংলার সমাজের যাতায়াত ও যানবাহন ব্যবস্থার দিকটি ফুটে উঠেছে।
প্রাচীন বাংলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাহন ছিল গরুর গাড়ি ও নৌকা। ধনী লোকেরা হাতি, ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করত। তাদের স্ত্রী-পরিজনেরা নৌকা ও পালকিতে যাতায়াত করত। উদ্দীপকেও রাসেল ঘোড়ায় চড়ে কনের বাড়ি যাচ্ছে, কনে পালকিতে আসছে এবং অতিথিরা নৌকায় যাতায়াত করছে। অর্থাৎ সেকালের যানবাহনের ব্যবহারই এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
দৃশ্য-২-এর রবিনের দেশের বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ প্রচুর খাদ্যশস্য, অর্থকরী ফসল ও বিভিন্ন ধরনের পোশাক উৎপাদন প্রাচীন বাংলায়ও ছিল। এ কারণেই প্রাচীন বাংলা অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্যে সমৃদ্ধ ছিল।
১. কৃষি: ধান ছিল প্রধান ফসল। এছাড়া পাট, ইক্ষু, তুলা, নীল, সরিষা ও পান উৎপন্ন হতো। কৃষির প্রাচুর্যে বাণিজ্যের ভিত্তি তৈরি হয়।
২. শিল্প: বস্ত্রশিল্পে বাংলা বিখ্যাত ছিল। মসলিন, কার্পাস ও রেশমি কাপড় এবং শণের মোটা কাপড় তৈরি হতো। কুটির শিল্পও উন্নত ছিল।
৩. বাণিজ্য: বঙ্গের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ছিল সুতি ও রেশমি কাপড়, চিনি, গুড়, লবণ, মশলা, চাল ইত্যাদি। স্থল ও জলপথে ভারতের অন্য অঞ্চলের সাথে ব্যবসা চলত। সমুদ্রপথে সিংহল, চীন, যবদ্বীপ, সুমাত্রা প্রভৃতি দেশের সাথে এবং স্থলপথে নেপাল, ভুটান, তিব্বত ও মধ্য এশিয়ার সাথে বাণিজ্য চলত।
৪. বন্দর ও নগর: কোটিবর্ষ, পুণ্ড্রবর্ধন, তাম্রলিপ্তি, কর্ণসুবর্ণ, সপ্তগ্রাম প্রভৃতি নগর ও বন্দর গড়ে ওঠে।সুতরাং, কৃষি ও শিল্পের প্রাচুর্যের ফলে প্রাচীন বাংলা অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্যে সমৃদ্ধ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও