ব্যবসায় উদ্যোগ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
নবীন কুমার একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার। তিনি কর্মীদের মতামত নিয়ে কাজ করেন না। তার ভাবনা কর্মীদের চাপ দিয়ে কাজ না করালে তারা অলস হয়ে পড়বেন। তাছাড়া তিনি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আলোচনা না করেই কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেন। সবসময় কর্মীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। অপরপক্ষে পাশের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মি. সোহাগ কর্মীদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি তার সততা, দক্ষতা, সহনশীলতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে অল্প দিনেই কর্মীদের পছন্দের ব্যক্তি হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। ফলে কর্মীগণ আন্তরিকতা ও পরিশ্রম করে নিজ নিজ কাজ সম্পন্ন করায় উৎপাদন ও মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েই চলছে।
- ক)(1)
ব্যবসায়ের জন্য অর্থ সংগ্রহের প্রধান উৎস কোনটি?
- খ)(2)
মুক্ত নেতৃত্ব কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
নবীন কুমার কোন ধরনের নেতা? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মি. সোহাগের প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অংশ মনে করেন-উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ব্যবসায়ের জন্য অর্থ সংগ্রহের প্রধান উৎস হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক।
- খ)
যে নেতৃত্বে নেতা কর্মীদের ওপর দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন, তাকে মুক্ত নেতৃত্ব (Laissez Faire Leadership) বলে। এখানে নেতা কর্মীদের সুনির্দিষ্ট আদেশ দেন না এবং জবাবদিহিতা আদায় করেন না। কর্মীরা নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করে থাকে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময় বেশি লাগে এবং প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে ভালো আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক ও দলীয় কাজের ওপর।
- গ)
নবীন কুমার স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব (Autocratic Leadership)-এর অধিকারী নেতা।
ব্যাখ্যা: স্বৈরতান্ত্রিক নেতা কর্মীদের মতামত বা পরামর্শ গ্রহণ করেন না, শুধু আদেশ করেন। তিনি কর্মীদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখেন না, তাদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং সবসময় চাপের মুখে রাখেন।
উদ্দীপকে নবীন কুমার কর্মীদের মতামত নিয়ে কাজ করেন না, আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে দেন, চাপ ছাড়া কর্মীরা অলস হয়ে পড়বে বলে মনে করেন এবং নেতিবাচক মনোভাব রাখেন। এসব বৈশিষ্ট্য স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়।
- ঘ)
মি. সোহাগ গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব-এর অনুসারী, তাই তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অংশ মনে করেন।
১. পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত: গণতান্ত্রিক নেতা কর্মীদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেন। উদ্দীপকে সোহাগ তা-ই করেন। ফলে কর্মীরা সিদ্ধান্তে নিজেদের অংশীদার ভাবেন।
২. উন্মুক্ত যোগাযোগ ও জবাবদিহিতা: এ নেতা কর্মীদের প্রশ্নের জবাব দেন এবং কর্মীদের কাছে জবাবদিহি করেন। এতে কর্মীদের আস্থা ও আন্তরিকতা বাড়ে।
৩. ব্যক্তিগত গুণাবলি: সোহাগের সততা, দক্ষতা, সহনশীলতা ও অভিজ্ঞতা তাকে কর্মীদের পছন্দের ব্যক্তি করেছে। ফলে কর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিশ্রম করেন।
৪. ফলাফল: এই আন্তরিকতার কারণেই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও মুনাফা ক্রমাগত বাড়ছে।সুতরাং, কর্মীদের মূল্যায়ন ও অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কারণেই মি. সোহাগের প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অংশ মনে করেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও