ভূগোল এবং পরিবেশ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: মলি যে বসতিতে বাস করে সেখানে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির মাঝে দূরত্ব খুব কম এবং বাসগৃহগুলোর একত্রে সমাবেশ লক্ষণীয়।দৃশ্যকল্প-২: রিতু তার ভূগোল বই পড়ে জানতে পারে, সমুদ্র তলদেশে একটি ভূমিরূপ আছে যেটি মহাদেশসমূহের চারদিকের স্থলভাগের কিছু অংশ ঢাল হয়ে পানিতে নেমে গিয়েছে। আবার আরেক ধরনের ভূমিরূপ রয়েছে যা প্লেটসমূহের সংঘর্ষের ফলে প্লেট সীমানায় অবস্থিত।
- ক)(1)
বণ্টন মানচিত্র কাকে বলে?
- খ)(2)
নিয়ত বায়ুপ্রবাহকে সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মলির বসতিটি গড়ে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২. এ উল্লিখিত সমুদ্র তলদেশে ভূমিরূপ দুটির বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে মানচিত্রে কোনো দেশ বা অঞ্চলে জনসংখ্যা, শস্য, জীবজন্তু, শিল্প ইত্যাদির বণ্টন দেখানো হয়, তাকে বণ্টন মানচিত্র বলে।
- খ)
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু) সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে। এই ঘর্ষণের ফলে পানি বায়ুর গতিপথে চলতে শুরু করে এবং ঘূর্ণন (gyre) তৈরি হয়।
এসব বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধান সমুদ্রস্রোতগুলো এই বায়ুপ্রবাহের গতিপথ অনুযায়ী সৃষ্টি হয়। তাই নিয়ত বায়ুপ্রবাহকে সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ বলা হয়। - গ)
মলির বসতিটি গোষ্ঠীবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ বসতি, কারণ এখানে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির দূরত্ব কম এবং বাসগৃহগুলো একত্রে সমাবিষ্ট। এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠার কারণ:
১. পানীয় জলের সহজলভ্যতা: জলের উৎসের কাছে মানুষ একত্রে বসতি গড়ে।
২. উর্বর মাটি: উর্বর মাটিতে পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে ওঠে।
৩. প্রতিরক্ষা: শত্রু বা বন্যজন্তুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মানুষ একত্রে বাস করে।
৪. যোগাযোগ ও সামাজিক বন্ধন: নদী তীর বা সমতলভূমিতে যাতায়াতের সুবিধা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বাড়িগুলো কাছাকাছি গড়ে ওঠে। - ঘ)
দৃশ্যকল্প-২-এ উল্লিখিত ভূমিরূপ দুটি হলো মহীসোপান (মহাদেশের চারদিকে ঢাল হয়ে পানিতে নেমে যাওয়া স্থলভাগ) এবং গভীর সমুদ্রখাত (প্লেট সীমানায় অবস্থিত)। এ দুটির তুলনা নিচে দেওয়া হলো।
১. গঠন: মহীসোপান মহাদেশের উপকূল থেকে ক্রমান্বয়ে সমুদ্রে নিমজ্জিত অংশ। সমুদ্রখাত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক প্লেট সংঘর্ষের ফলে প্লেট সীমানায় সৃষ্টি হয়।
২. গভীরতা: মহীসোপান অগভীর, সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার। সমুদ্রখাত খুব গভীর, ৫,৪০০ মিটারের অধিক। যেমন, ম্যারিয়ানা খাতের গভীরতা প্রায় ১০,৮৭০ মিটার।
৩. ঢাল ও প্রশস্ততা: মহীসোপান অল্প ঢালু (প্রায় ১° কোণে) ও প্রশস্ত, গড় প্রশস্ততা ৭০ কিমি। সমুদ্রখাত খাড়া ঢালবিশিষ্ট এবং তুলনামূলকভাবে কম প্রশস্ত।
৪. গুরুত্ব: মহীসোপান মৎস্য ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। সমুদ্রখাত এলাকায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি বেশি হয়।সুতরাং, গঠন, গভীরতা ও ঢাল সব দিক থেকেই মহীসোপান ও সমুদ্রখাত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভূমিরূপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও