বিজ্ঞান • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২০
বিজ্ঞান প্রশ্ন
বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এদেশে প্রতি বছরই ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা,খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি লেগেই থাকে। তাই এদেশের মানুষকে এসব দুর্যোগ মোকাবেলা করেই টিকে থাকতে হয়।
- ক)(1)
IPCC এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রবালগুলো বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের তৃতীয় দুর্যোগটি সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাদের কী করণীয়? যুক্তিসহ মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
IPCC-এর পূর্ণরূপ Intergovernmental Panel on Climate Change।
- খ)
প্রবাল তাপমাত্রার প্রতি খুব সংবেদনশীল। প্রবালের জীবনযাপনের জন্য ২২–২৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপযোগী, কিন্তু ১–২° বাড়লেই এটি মারাত্মক হুমকি। বৈশ্বিক উষ্ণতায় সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বাড়ছে, তার সাথে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। ফলে ১৯৬০ সালের তুলনায় ২০১০ সালে সেন্টমার্টিনের প্রায় ৭০% প্রবাল বিলীন হয়েছে, তাই প্রবালগুলো ঝুঁকিপূর্ণ।
- গ)
উদ্দীপকের তৃতীয় দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড়।
সৃষ্টির কারণ:
১. উচ্চ তাপমাত্রা: সাগরের পানির তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হলে প্রচুর বাষ্পীভবন হয়। বাষ্প ঘনীভূত হলে সুপ্ত তাপ বাতাসে ছেড়ে দেয়, বাতাস উত্তপ্ত হয় ও বাষ্পীভবন আরও বাড়ে। বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এই তাপমাত্রা থাকে।
২. নিম্নচাপ: এতে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। আশপাশের বাতাস সেখানে ছুটে এসে ঘুরতে ঘুরতে ওপরে ওঠে এবং ঘূর্ণিঝড় তৈরি করে। - ঘ)
উদ্দীপকের দুর্যোগগুলো হলো বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। এগুলো সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা কঠিন, তবে সঠিক পদক্ষেপে ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব।
১. মূল কারণ কমানো: বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে খরা ও ঘূর্ণিঝড় বাড়ে। তাই জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বেশি বেশি গাছ লাগানো দরকার।
২. পূর্বাভাস ও আশ্রয়: ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস প্রক্রিয়া জোরদার করা, উঁচু ও মজবুত আশ্রয়কেন্দ্র বানানো এবং নিচু এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো।
৩. প্রতিরক্ষা: জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে উপকূলে বাঁধ ও প্রচুর গাছপালা (বনায়ন) রোপণ করা।সুতরাং, প্রস্তুতি, সচেতনতা ও পরিবেশ রক্ষার মাধ্যমেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও